Logo

কারাগারেও লেগেছে ঈদের রঙ, বিভিন্ন আয়োজনে উচ্ছ্বসিত বন্দিরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ মার্চ, ২০২৬, ১৩:১৫
কারাগারেও লেগেছে ঈদের রঙ, বিভিন্ন আয়োজনে উচ্ছ্বসিত বন্দিরা
ফাইল ছবি

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ আর উৎসবের আবহ। সেই আনন্দ কেবল বাইরের পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ছড়িয়ে পড়েছে কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরেও। দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দিরা এবার ঈদ উদ্‌যাপন করছেন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে।

বিজ্ঞাপন

পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকলেও বন্দিদের জন্য ঈদকে আনন্দময় করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এরই অংশ হিসেবে ঈদের দিন সকাল থেকে শুরু হয় নানা আয়োজন, যেখানে বন্দিদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ) সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টায় সেখানে দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এসব জামাতে বন্দিদের পাশাপাশি কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অংশ নেন। নামাজ শেষে বন্দিদের মাঝে পরিবেশন করা হয় ঈদের বিশেষ খাবার। সকালের নাস্তায় ছিল মুড়ির পায়েস ও সেমাই, যা বন্দিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন

খাবার পরিবেশনের পরপরই শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, আবৃত্তি ও বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নিয়ে বন্দিরা নিজেদের মতো করে ঈদের আনন্দ উপভোগ করেন।

অন্য একটি বিশেষ কারাগারে সকাল সাড়ে ৮টায় আরও একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মামলায় বন্দি থাকা প্রায় ১২৩ জন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও অংশ নেন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ফারুক আহমেদ জানান, বন্দিদের জন্য পূর্বনির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী ঈদের বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকালের নাস্তার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বন্দিরা আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

কারা সূত্র জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে দেশের সব কারাগারে। দুপুরের খাবারে রাখা হয়েছে পোলাও, গরুর রেজালা (যারা গরু খান না বা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংস), সেদ্ধ ডিম, মুরগির রোস্ট, মিষ্টি, সালাদ ও পান-সুপারি। রাতের মেনুতে রয়েছে সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে বর্তমানে ৭৩টিতে বন্দি রয়েছে। সারা দেশে মোট বন্দির সংখ্যা প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০, যাদের মধ্যে হাজতি ও কয়েদি উভয়ই অন্তর্ভুক্ত।

বিজ্ঞাপন

ঈদের দিন বন্দিদের জন্য স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের বিশেষ সুযোগও রাখা হয়েছে। তারা পরিবারের পাঠানো খাবার খেতে পারছেন, পাশাপাশি মুঠোফোনে পাঁচ মিনিট কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া তিন দিনের মধ্যে এক দিন স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগও দেওয়া হবে।

বিনোদনের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে খেলাধুলা। ঈদের দ্বিতীয় দিন বন্দিদের অংশগ্রহণে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এবারের ঈদে বন্দিদের জন্য নতুন পোশাকও সরবরাহ করা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে দুস্থ বন্দিদের মধ্যে লুঙ্গি, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবি বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া অনেক বন্দি তাদের পরিবারের পক্ষ থেকেও নতুন পোশাক পেয়েছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD