জনগণের নিরাপত্তায় কর্মস্থলেই কাটে পুলিশের ঈদ উৎসব

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ আর পারিবারিক মিলনমেলা। কিন্তু সেই আনন্দ সবার ভাগ্যে সমানভাবে জোটে না। দেশবাসী যখন উৎসবের আমেজে মেতে ওঠে, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের অনেকেই কাটান কর্মব্যস্ততার মধ্যেই। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পরিবার থেকে দূরে থেকেই ঈদের দিন পার করেন তারা।
বিজ্ঞাপন
ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করতে দিন-রাত কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ঈদগাহ, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই পরিবারের সঙ্গে নামাজ আদায়ের সুযোগটুকুও পান না। ডিউটির ফাঁকে যেখানে সুযোগ মেলে, সেখানেই জামাতে অংশ নিয়ে আবার দায়িত্বে ফিরে যেতে হয় তাদের।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদে রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৫ হাজারের বেশি ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), সোয়াট, ডগ স্কোয়াড ও অশ্বারোহী ইউনিটসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নগরীর ৫০টি থানার আওতায় ৭১টি চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া ৬৬৭টি টিম সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছেন। ঈদের জামাতগুলোতেও ছিল কঠোর নিরাপত্তা বলয়, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন।
ডিএমপির এক সমন্বয় সভায় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদকে ঘিরে নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়েও নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদের দিন ভোর থেকেই ডিউটির মাধ্যমে তাদের দিন শুরু হয়। অনেক সময় রাস্তায় বা দায়িত্বস্থলেই নামাজ আদায় করতে হয়। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ না থাকলেও দায়িত্বকেই তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, দেশের বাস্তবতায় পুলিশের ওপর দায়িত্ব ও চাপ অত্যন্ত বেশি। সীমিত জনবল নিয়ে ব্যাপক কাজ করতে হচ্ছে তাদের। অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত ছুটি পাওয়া সম্ভব হয় না, ফলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও এর প্রভাব পড়ে।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা তুলনামূলক কম। যেখানে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সদস্য দরকার, সেখানে সীমিত সংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়েই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ঈদের দিন পুলিশ সদস্যদের জন্য উন্নত খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়, যাতে দায়িত্ব পালনের মাঝেও তারা কিছুটা স্বস্তি পান। তবে পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্টই যেন বড় হয়ে ওঠে এই উৎসবের দিনে।
অন্যদিকে, কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের পরিবারের প্রতিও সম্মান জানানো হয়েছে। তাদের জন্য ঈদের শুভেচ্ছা ও উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
অন্যদের ঈদকে নিরাপদ ও আনন্দময় করতে নিজের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা। তাদের এই ত্যাগের মধ্যেই প্রতিফলিত হয় পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনসেবার অঙ্গীকার।








