Logo

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি : নেপথ্যের চক্র চিহ্নিত করার নির্দেশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ মার্চ, ২০২৬, ১৭:৪২
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি : নেপথ্যের চক্র চিহ্নিত করার নির্দেশ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে ইউরোপের গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় কমপক্ষে ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের অন্তত ১০ জন রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে জড়িত চক্র চিহ্নিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, গ্রিসে বাংলাদেশ দূতাবাস নিহত ও জীবিতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে।

তিনি বলেন, আমাদের মিশন থেকে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। মানবপাচারকারীরা লিবিয়া ও বাংলাদেশ—উভয় জায়গাতেই সক্রিয়। একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে বিপদসংকুল পথে পাঠাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, নৌকাটিতে বিভিন্ন দেশের নাগরিক থাকলেও বাংলাদেশিদের মধ্যে একজন নারী ও একজন শিশুও ছিলেন, যা ঘটনায় আরও হৃদয়বিদারক মাত্রা যোগ করেছে। জীবিতরা বর্তমানে হাসপাতালে বা শরণার্থী ক্যাম্পে রয়েছেন।

তিনি জানান, দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে তাদের অবস্থা যাচাই করছে। তবে স্থানীয় নিয়ম-কানুন অনুসারে তথ্য সংগ্রহ ও পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে কিছুটা সময় লাগবে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ঘটনাটি আমাদের ভঙ্গুর অবস্থার ছবি তুলে ধরে। যারা মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত, তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে—চাই তা আন্তর্জাতিক আইন হোক বা দেশের আইন।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যাত্রাপথে পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানি ছিল না। চরম অমানবিক পরিস্থিতির কারণে অনেকেই মারা গেছেন এবং কিছু মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় মিলিতভাবে জীবিত বাংলাদেশিদের শনাক্তকরণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরবর্তীতে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের মানবপাচার বন্ধ করতে কার্যকর সমাধান বের করা অত্যাবশ্যক। এই ধরনের অমানবিক কর্মকাণ্ড সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের ঝুঁকি কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে। সরকারের তৎপর পদক্ষেপই এখন প্রাথমিকভাবে জীবিতদের রক্ষা ও নেপথ্যের চক্র শনাক্তকরণের প্রধান হাতিয়ার।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD