ভালো নেই ‘পানি লাগবে, পানি’ বলে শহীদ হওয়া মুগ্ধর বাবা

২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের পরিবারে নতুনভাবে শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমেছে। রবিবার, উত্তরার আজমপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে পানি ও বিস্কুট বিতরণের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত মুগ্ধের বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন।
বিজ্ঞাপন
রবিবার রাত ৮টায় নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি পোস্টে পরিবারের পরিস্থিতি তুলে ধরেন মুগ্ধের ভাই মীর স্নিগ্ধ।
তিনি লেখেন, আমাদের আব্বু হঠাৎ করেই একটি মেজর হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। এত বছরেও তাকে এত বড় অসুস্থতায় পড়তে দেখিনি। ছোটখাটো অসুখ হলে তিনি নিজেই ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে যেতেন, আমাদের জানাতেনও না। আমাদের সবচেয়ে সাহসী মানুষটি আজ হার্ট অ্যাটাকের রোগী।
বিজ্ঞাপন
স্নিগ্ধ আরও জানান, মুগ্ধকে হারানোর পর থেকে তার বাবা ধীরে ধীরে মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ভেতরে ভেতরে তিনি অনেকটাই দুর্বল হয়ে গিয়েছিলেন। আজ সেই মানুষটি হার্ট অ্যাটাকের রোগী। মানবিক মুগ্ধ যে প্রতিভা দেখিয়েছে, তার পুরোপুরি প্রতিচ্ছবি ছিল আব্বু।
পরিবারের প্রতি সমর্থন ও মানুষের দোয়া কামনা করে স্নিগ্ধ উল্লেখ করেন, ডাক্তার বলেছেন, কালকের অপারেশন তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাগবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবার জীবনের সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ যা করেন তার মাঝেই কল্যাণ লুকিয়ে থাকে। একজন বীরের বাবার জন্য আপনাদের দোয়া কামনা করছি।
প্রসঙ্গত, শহীদ মুগ্ধ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং মৃত্যুর আগে ঢাকার বিইউপি থেকে এমবিএ করছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবেও কাজ করতেন। আন্দোলনের সময় তার উক্তি “পানি লাগবে কারও, পানি?” ছাত্র সমাজে আজও স্মরণীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শহীদ মুগ্ধের বাবা মীর মুস্তাফিজুর রহমান এক সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং পরিবারের রাজনীতিতে তার বিশ্বাস ও আদর্শ আজও প্রভাব ফেলে। পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, দেশবাসী এবং বন্ধু-বান্ধবরা তাদের পাশে দাঁড়াবে এই কঠিন সময়ে।









