প্রতিদিন ১১ ঘণ্টা পেট্রোল পাম্প বন্ধের প্রস্তাব মালিকদের

দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্পে হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাম্প মালিকরা। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিদিন ১১ ঘণ্টা পাম্প বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এ প্রস্তাব তুলে ধরে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাম্পগুলোতে নিয়ন্ত্রণহীন ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকার যে জ্বালানি রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে পাম্প মালিকরা সহযোগিতা করছেন। তবে মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে গুজব ও ভুল তথ্যের কারণে অনেকেই পাম্পে ভিড় করছেন এবং কোথাও কোথাও হামলা, কর্মীদের ওপর নির্যাতন এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাম্পগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলা-সহিংসতার ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ডিপো থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয় করা এবং ট্যাঙ্কলরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সংগঠনের নেতারা জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই এবং বিদ্যমান মজুত দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের কারণে অনেক গ্রাহক প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহে ঝুঁকছেন, যা স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।
পাম্প মালিকরা সতর্ক করে বলেন, সবাই যদি আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করেন, তাহলে জরুরি প্রয়োজন থাকা অন্যরা বঞ্চিত হবেন। তাই জনসাধারণকে গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া জ্বালানি খাতে অপপ্রচার বন্ধে সরকারের মনিটরিং জোরদার এবং রেশনিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে পাম্প মালিকদের ওপর একতরফা দোষারোপ না করার আহ্বান জানান সংগঠনের নেতারা। একই সঙ্গে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার জন্যও সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ করা হয়।








