শিগগিরই দেশে পৌঁছাবে হামসহ ১০ ধরনের টিকা: স্বাস্থ্য সচিব

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ এবং শিশু মৃত্যুহার কমানোর জন্য হামসহ ১০ ধরনের টিকার অর্থ সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকা দেশে পৌঁছাবে এবং ডোজ হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
সচিব জানান, টিকা সংগ্রহের জন্য সরকার ইতোমধ্যেই ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং এ অর্থ ইউনিসেফকে পরিশোধ করা হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে পূর্বে কিছু স্থবিরতা তৈরি হলেও এবার ব্যাপক পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংসদে আলোচনা আজ
বিজ্ঞাপন
রাজশাহীতে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সচিব বলেন, “রাজশাহীতে কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন পেয়েছি, যেটিতে দেখা গেছে সবাই হামে মারা যায়নি। অন্যান্য জটিল রোগের কারণে কিছু শিশু হাসপাতালে এসেছিল। আমরা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেবাদানে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। ১২০০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার রোগী চিকিৎসাধীন, তাই হামে আক্রান্ত নয় এমন জটিল রোগীদের বিকল্প হাসপাতালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইসোলেশন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত শয্যা ও চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
সচিব জানান, রাজশাহীতে নতুন নির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে জনবল বাড়ানো হবে। নতুন ভেন্টিলেটর সরবরাহ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে।
বিজ্ঞাপন
পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদ-উল-ইসলাম, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ড. খন্দকার মো. ফয়সাল আলম, রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহিদা ইয়াসমিনসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা।








