Logo

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নিরপেক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নেই: রিজভী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৮:৪১
সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নিরপেক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নেই: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তার মতে, প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্ট হলে রাষ্ট্রে অস্থিরতা, অনিয়ম ও লুটপাট বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং বহিরাগত প্রভাবের সুযোগ তৈরি করে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে।

রিজভী বলেন, জাতীয় স্বার্থে ঐক্য বজায় রাখতে পারলে কোনো শক্তিই দেশকে অস্থিতিশীল করতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা শুধু নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে দীর্ঘ ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা রয়েছে। ১৭৫৭ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে এ অঞ্চলের মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার সংগ্রাম করেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ বঞ্চনা ও প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে একটি জাতি কীভাবে আত্মপরিচয় গড়ে তোলে, তার উদাহরণ ভিয়েতনাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতাও একইভাবে ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে এই ইতিহাসকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা হয়েছে। এটিকে কখনো শুধুমাত্র আঞ্চলিক যুদ্ধ হিসেবে দেখানোর প্রবণতা দেখা গেছে, অথচ বাস্তবে এটি ছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য পেশার মানুষ এই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

ইতিহাস বিকৃতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার অর্জনকে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার প্রবণতা জাতির জন্য ক্ষতিকর। তার মতে, নতুন প্রজন্ম এখন ধীরে ধীরে প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাধীনতার পূর্ণ অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, কেবল ভৌগোলিক স্বাধীনতা যথেষ্ট নয়। নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হয় না। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনের নিয়োগ ও কার্যক্রম যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়, তাহলে তা বিভাজন বাড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে। তার মতে, মেধা ও প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে প্রশাসন গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, সুশাসনের অভাবে রাষ্ট্রে অনিয়ম বাড়ে, জনগণের সম্পদ অপব্যবহার হয় এবং তা বিদেশে পাচারের ঝুঁকি তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে, যা রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দিতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমান এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। এছাড়া উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগ ও অর্জনকে স্মরণ করে নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিদের সম্মাননা প্রদান এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি শেষ হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD