ঘনিয়ে আসছে অন্ধকার, প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা হতে পারে লোডশেডিং

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বিদ্যুৎ খাতে। জ্বালানি তেলের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে, আর এরই প্রভাবে বাড়তে পারে লোডশেডিংয়ের মাত্রা।
বিজ্ঞাপন
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণের কাছাকাছি থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের অভাবে সেই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে করে উৎপাদন কমে গিয়ে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা সরাসরি ভোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার পর শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি এক ঘণ্টা কমিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করার চেষ্টা চলছে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখা।
বিজ্ঞাপন
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একটি অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, গ্যাস সরবরাহ যদি ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে আসে, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে যেতে পারে। যা দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।
অন্যদিকে, এপ্রিল ও মে মাসে বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলেও সম্ভাব্য উৎপাদন হতে পারে প্রায় ১৬ হাজার ২০০ মেগাওয়াট, যা চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
গত শনিবার, যা ছিল সরকারি ছুটির দিন, সেদিন সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। দিনে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং থাকলেও রাতে তা একপর্যায়ে ১০০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। এতে বোঝা যায়, চাহিদা বাড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিজ্ঞাপন
গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের প্রভাব শহরের তুলনায় বেশি পড়ছে। মার্চ মাসের শুরুতে যেখানে প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল, সেখানে ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে চাহিদা কমে সাময়িক স্বস্তি এলেও বর্তমানে আবার বাড়তির দিকে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
আরও পড়ুন: ডিএমপিসহ পুলিশের ৪ কর্মকর্তার বদলি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে এবং তাপমাত্রা সহনীয় থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কম থাকবে। তবে বৃষ্টি না হলে এবং তাপমাত্রা বাড়লে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে, এপ্রিল মাসে দেশের ওপর দিয়ে একাধিক তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বেড়ে গিয়ে লোডশেডিং পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।








