প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সূত্রের খবর, আগামী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এ সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং দিল্লি এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ঢাকার ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত সরকার। সফরে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকেও বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। ভারত সফরকে স্মরণীয় করতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের সময়কার মতো বিলাসবহুল আতিথেয়তা প্রদানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাদের থাকার জন্য ভারতের পাঁচ তারকা হোটেল ‘আইটিসি মৌর্য’-তে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শুক্রবারও চলবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন
একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কিছুটা তিক্ত হয়ে ওঠে। এবার তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে সেই সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত ও গভীর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারত এই সফরের মাধ্যমে বন্ধুত্বের নতুন নজির স্থাপন করতে চায় এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাতে চায়।
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নেপাল সফর এবং সৌদি আরবের ওমরাহ পালন পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ভারত সফরের গুরুত্ব ও চলতি রাজ্য নির্বাচনের কারণে সফরের সময় কিছুটা পেছানো হয়েছে। ভারতের সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা শেষে ১০ এপ্রিলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে ভারতের সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা) সহায়তা প্যাকেজ, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি এবং চলতি ইরি মৌসুমে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির বিষয় আলোচনায় এসেছে।
বিজ্ঞাপন
তাদের সফরসঙ্গী হিসেবে প্রাথমিক তালিকায় নাম রয়েছে—অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রীর মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়া কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিকেও সফরসঙ্গী করা হতে পারে।
সূত্র: এশিয়া পোস্ট








