Logo

ঢামেকে চিকিৎসক-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ : উত্তেজনা নিরসনে বৈঠকে সবপক্ষ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২০:৫৮
ঢামেকে চিকিৎসক-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ : উত্তেজনা নিরসনে বৈঠকে সবপক্ষ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেছেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। এতে হাসপাতালের পরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।

এর আগে একই দিন বিকেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। নিরাপত্তাজনিত কারণে জরুরি বিভাগের প্রধান প্রবেশপথ ‘কেচি গেট’ বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা পড়েন চরম ভোগান্তিতে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, অসুস্থ এক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে জরুরি বিভাগে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাইরে থেকে ‘নেলবান’ নামের একটি ইনজেকশন সংগ্রহ করতে বলেন, যা হাসপাতালে মজুদ ছিল না। শিক্ষার্থীর সঙ্গে থাকা সহপাঠীরা বাইরে বিভিন্ন ফার্মেসিতে খোঁজ করেও ইনজেকশনটি না পেয়ে পুনরায় হাসপাতালে ফিরে আসেন এবং এ বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে সেই কথাকাটাকাটি হাতাহাতিতে রূপ নেয় বলে জানা গেছে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হাসপাতালজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ করে চিকিৎসাসেবা স্থগিত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান নেন, অন্যদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান নেন। দুই পক্ষের মাঝখানে বন্ধ করে দেওয়া হয় ‘কেচি গেট’, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

এ বিষয়ে জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, যে ইনজেকশনটি দেওয়া হয়েছিল তা প্যাথিডিন জাতীয় হওয়ায় অনেক ওষুধ বিক্রেতা সরবরাহে অনীহা দেখাতে পারেন। তবে সাধারণত এই ধরনের ওষুধ বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আপাতত জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু শিক্ষার্থী জরুরি বিভাগের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। এ অবস্থায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রধান গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD