শিরীন শারমিনের জামিন ভালো সিদ্ধান্ত: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিনকে আদালতের দেওয়া জামিনকে ভালো সিদ্ধান্ত হিসেবে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ নিশ্চয়ই যথাযথ বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ভোলায় তিন দিনের সরকারি সফরের শেষ দিনে (১৮ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ভোলা সার্কিট হাউসে সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
‘রিফাউন্ড আওয়ামী লীগ’ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এটা আমার জানা নেই। যেহেতু দলীয় পদ (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য) থেকে পদত্যাগ করেছি তাই দলীয় রাজনীতি নিয়ে অতোটা মাথা ঘামাই না। তবে আশা করি বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক দলের একটা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকুক।
বিজ্ঞাপন
স্পিকার বলেন, গত ২০ বছর যাবৎ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের দেখা পায়নি। বর্তমান বিশ্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া উন্নয়নের অন্য কোনো মাধ্যম এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে আমাদের দেশের জণগণ গণতন্ত্রমনা, রাজনীতি সচেতন, তারা কোনো স্বৈরশাসককে মেনে নেয় না। অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম, খুন নানাবিধ নির্যাতন উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মানুষ রাজপথে নেমে এসে আবার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। ২০২৪ এর আন্দোলনে সারাবিশ্বের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে। সাধারণত আমাদেরকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরাশক্তিসমূহ একটু হেয় করে দেখতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য যে সংগ্রাম করেছে দেশবাসী সত্যিকার অর্থে এটি নিয়ে অনেক গর্ব করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশ্বের নিত্যদিনের ঘটনা কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে মানবাধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। যে গুম, খুন এবং নির্যাতনের মধ্য দিয়ে দেশবাসী কাটিয়েছে তা থেকে আজ আমরা মুক্ত।
বিজ্ঞাপন
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন। রাজনৈতিক দলের প্রধান দায়িত্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা—এ বিষয়ে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে দলমত নির্বিশেষে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক কারণে হয়রানি বন্ধ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্পিকার।
এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।








