রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো ইচ্ছা বা পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ শুধুমাত্র দেশের বইপড়া আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক চর্চা প্রসারের বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিল।
বিজ্ঞাপন
গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। ওই বৈঠকের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা জল্পনা শুরু হয়। অনেকে ধারণা করতে থাকেন, তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে এসব আলোচনা নাকচ করে দিয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নিয়ে তিনি সেখানে যাননি। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, পাঠাভ্যাস বিস্তার এবং শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা সৃজনশীল কার্যক্রমকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, আবৃত্তি, নাটক ও সংগীতচর্চা ছড়িয়ে দেওয়া এবং পাঠ্যসূচির বাইরের জ্ঞানচর্চা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের কীভাবে বইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, সেটিও গুরুত্ব পেয়েছে আলোচনায়।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব পেলে কী করবেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি রসিকতার সুরে বলেন, “আমরা তো ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় হবো কী করে!”
বিজ্ঞাপন
পরে তিনি গম্ভীরভাবে যোগ করেন, জীবনে তিনি সবসময় বড় ও মূল্যবোধসম্পন্ন বিষয়কেই গুরুত্ব দিয়েছেন, রাজনীতি বা ক্ষমতার কাঠামোর মধ্যে নিজেকে দেখেন না।
৮৬ বছর বয়সী এই শিক্ষাবিদ দীর্ঘদিন ধরে দেশের পাঠাভ্যাস ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে কাজ করে আসছেন। তার মতে, একটি জাতির উন্নয়নে জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতির বিকাশ অপরিহার্য, আর সে লক্ষ্যেই তার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।








