চলছে কোরবানির প্রস্তুতি, ঢাকায় বসবে ২৪ অস্থায়ী পশুর হাট

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীতে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ বা ২৮ মে উদ্যাপিত হতে পারে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে এবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ২৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)—উভয় সংস্থাই সমানভাবে ১২টি করে অস্থায়ী হাট বসাবে। এর বাইরে গাবতলী ও সারুলিয়ায় বিদ্যমান দুটি স্থায়ী পশুর হাটও চালু থাকবে। ফলে অস্থায়ী ও স্থায়ী মিলিয়ে মোট ২৬টি স্থানে কোরবানির পশু কেনাবেচার সুযোগ পাবে নগরবাসী।
প্রতি বছর ঈদের আগে পশুর হাট ঘিরে রাজধানীতে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আনা গরু, ছাগলসহ নানা গবাদিপশু এবং ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে সরগরম হয়ে ওঠে এসব হাট। দরদাম, কেনাবেচা আর ‘দাম কত হলো’—এসব পরিচিত দৃশ্য যেন ঈদের আগাম আনন্দের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নির্ধারিত হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে—পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন নদীপাড়, উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাব এলাকা, রহমতগঞ্জ ক্লাব, আমুলিয়া মডেল টাউন, শ্যামপুর কদমতলী ট্রাক স্ট্যান্ড, আফতাব নগর (ইস্টার্ন হাউজিং) এলাকা, শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন খালি জায়গা, কাজলা ব্রিজ থেকে মাতুয়াইল পর্যন্ত অংশ, দয়াগঞ্জ থেকে জুরাইন রেলক্রসিং এলাকা, মোস্তমাঝি মোড়ের পাশে গ্রিন বনশ্রী, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব সংলগ্ন এলাকা এবং গোলাপবাগ আউটফল স্টাফ কোয়ার্টারের উত্তর পাশ।
এসব হাটের মধ্যে শিকদার মেডিকেল সংলগ্ন হাটের সর্বোচ্চ ইজারা মূল্য ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা, আর সর্বনিম্ন গোলাপবাগ এলাকার হাটের মূল্য ৫৩ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৪ টাকা। অন্যান্য হাটের ইজারা মূল্যও স্থানভেদে ভিন্ন ভিন্ন নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জানান, ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব হাটে পশু কেনাবেচা চলবে। ইজারার নির্ধারিত অর্থের পাশাপাশি ভ্যাট, আয়কর ও পরিচ্ছন্নতা ফিও পরিশোধ করতে হবে। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ হাটের স্থান পরিবর্তন বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনও গাবতলীর স্থায়ী হাটের পাশাপাশি ১২টি অস্থায়ী হাট বসানোর পরিকল্পনা করেছে। এসব হাটের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে—খিলক্ষেত, মিরপুর সেকশন-৬, কালশী বালুর মাঠ, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকা, মেরুল বাড্ডা, পূর্ব হাজীপাড়া, মোহাম্মদপুর বছিলা, উত্তরা দিয়াবাড়ী, ভাটুলিয়া, কাঁচকুড়া বাজার এলাকা, মস্তুল চেকপোস্ট সংলগ্ন এলাকা এবং ভাটারা সুতিভোলা খালপাড়।
উত্তর সিটিতে উত্তরা দিয়াবাড়ী হাটের ইজারা মূল্য সর্বোচ্চ ৮ কোটি ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরদিকে পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার হাটের মূল্য সর্বনিম্ন ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বিজ্ঞাপন
ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ইসলাম জানান, ইজারাদাররা ঈদের দিনসহ পাঁচ দিন হাট পরিচালনা করতে পারবেন। ২৬ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ধাপে ধাপে দরপত্রের কার্যক্রম চলবে। নির্ধারিত দরের ওপর ভ্যাট ও পরিচ্ছন্নতা ফি প্রদান বাধ্যতামূলক।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী হাট সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের হাতে থাকবে।








