সবাই মিলে কাজ করলে পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

দেশের পানিসংকট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুর এলাকায় চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল খননের মাধ্যমে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে বন্যার সময় মানুষের ঘরবাড়ি, গবাদিপশু, ফসল ও অন্যান্য সম্পদ রক্ষা পাবে। পাশাপাশি শুকনো মৌসুমে কৃষকরা সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি পাবেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি স্মরণ করেন, চৌকিরদহ খালটি প্রথম খনন করা হয়েছিল ১৯৭৯ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে। দীর্ঘদিন পর আবারও প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির কারণে আশপাশের জমি ও বসতিতে যে পানি জমে যায়, তা এই খালে সংরক্ষণ করা যাবে। আবার খরার সময় ওই পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এতে এলাকার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।

স্থানীয়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু খাল খনন করলেই হবে না, এর দুই পাশে গাছ লাগাতে হবে এবং পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে। খালের পানিতে মাছ চাষের সুযোগ তৈরি হলে এলাকার বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি নারীরাও খালের পাড়ে শাকসবজি চাষ করে উপকার পেতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অনেক খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় মানুষ একদিকে যেমন পানির অভাবে ভুগছে, অন্যদিকে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধারণের জায়গাও থাকছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় খাল পুনঃখননকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজেকে এলাকার সন্তান উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া থাকলে এই ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি আরও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও এলাকায় এসে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি দেখবেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে দুপুরে বাগবাড়ীতে পৌঁছে তিনি জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।
বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় খালের দুই পাশে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। পরে নিজ পৈতৃক বাড়িতে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বগুড়া শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।
সন্ধ্যার আগে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।








