সরকার ব্যবসা নয়, ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করবে

দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকার সরাসরি ব্যবসায় জড়াবে না; বরং ব্যবসায়ীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে তাদের কার্যক্রমে সহায়তা করবে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে অবস্থিত প্রাণ কারখানা (এএমসিএল) পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সামনে থাকা প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার উদ্যোগ ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বেকারত্ব হ্রাস, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা। এ লক্ষ্যে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
এর আগে সকালে তিনি নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত বন্ধ কো-অপারেটিভ জুট মিল পরিদর্শন করেন। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশের বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি কিংবা বেসরকারি—উভয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এসব মিল সচল করার বিষয়ে কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, নরসিংদীর দুটি কারখানাসহ দেশের অন্যান্য বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে, যাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে স্থানীয় জনগণকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
প্রতিমন্ত্রী অতীতের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে বন্ধ পাটকলগুলো লিজ দেওয়ার নামে অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুব্রত শিকদার, যুগ্মসচিব হাফসা বেগম, বিজেএমসি চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন শিকদার, উপসচিব সাইফুল ইসলাম আজাদ, উপসচিব শাহদত হোসেন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রতিমন্ত্রী পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে অবস্থিত বাংলাদেশ জুট মিল পরিদর্শন করেন এবং কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবন এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।








