Logo

টেন্ডার বিরোধে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালকের উপর ‘ভাড়াটে হামলা’

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:৪৯
টেন্ডার বিরোধে ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালকের উপর ‘ভাড়াটে হামলা’
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর একটি সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে টেন্ডার সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মহাখালীর জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আহমদ হোসেনকে লক্ষ্য করে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালের উপ-পরিচালকের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করেছে। হামলার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাত ও পিঠে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বনানী থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়।

যৌথ অভিযানে দক্ষিণখান, বাড্ডা ও গুলশান এলাকা থেকে শরিফুল আলম করিম, আমিনুল ইসলাম কালু, সাজ্জাদ বদি, সালাউদ্দিন ও আরিফুজ্জামান নামে পাঁচজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় র‍্যাব।

তদন্তে উঠে এসেছে, হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই দ্বন্দ্ব থেকেই মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ দিয়ে হামলা চালানো হয়। তবে এই ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, টেন্ডার নিয়ে বিরোধে জড়িত একটি পক্ষ ‘রুবেলের ইএমই ট্রেডার্স’ এবং অন্যটি ‘মোনায়েম গ্রুপ’। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত রুবেল নামের এক ব্যক্তি এই হামলার নির্দেশ দেন এবং তার পক্ষে দেশে থাকা সহযোগীরা পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, হামলার ধরন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে এটি সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য চালানো হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন এবং ঘটনার পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন

র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত চিকিৎসকের দেওয়া তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যার ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং টেন্ডারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD