সবার প্রচেষ্টায় দেশে হাম নিয়ন্ত্রণে এসেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই হাম অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অতীতের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা সম্ভব হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে ‘জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, একসময় হাম পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক ছিল। তবে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় বর্তমানে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ বিষয়ে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি বিদেশি একটি দলের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একসময় সমাজে ধারণা ছিল শিশুর জীবনে একবার হাম বা জলবসন্ত হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।
অনুষ্ঠানে শিশুস্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই। কিন্তু বর্তমানে অনেক মা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়াতে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা উদ্বেগজনক। সিজারিয়ান ডেলিভারির হার বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে অনেক শিশু শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুর জন্মের আগ পর্যন্ত মায়ের শরীর থেকেই সে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করে। জন্মের পরও সেই পুষ্টির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বুকের দুধ অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে পুষ্টিকর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যাতে তারা ঘরে ঘরে গিয়ে মায়েদের সচেতন করতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
কর্মজীবী নারীদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কাজের ব্যস্ততার অজুহাতে শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ানো উচিত নয়। কাজের আগে ও পরে সময় বের করে অন্তত দিনে দুইবার শিশুকে মাতৃদুগ্ধ দেওয়া সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া সমাজ থেকে মাদক দূর করতে অভিভাবকদের ভূমিকার ওপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে এবং সন্ধ্যার পর তাদের অযথা বাইরে থাকার প্রবণতা কমাতে হবে। পরিবারের সচেতনতা বাড়লেই মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সহজ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।








