Logo

হকারদের পুনর্বাসনে আসছে নীতিমালা, কাজ শুরু করেছে কমিটি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:০৩
হকারদের পুনর্বাসনে আসছে নীতিমালা, কাজ শুরু করেছে কমিটি
ফাইল ছবি

রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়কে ব্যবসা করা হকারদের পুনর্বাসনে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, যা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি জারি করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিভাগের উপসচিব (সিটি কর্পোরেশন-১)। এছাড়া কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এবং রাজউকের একজন পরিচালক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—ঢাকা মহানগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা এবং ফুটপাতে জীবিকা নির্বাহকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে পুনর্বাসনের জন্য একটি বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করা। এ নীতিমালায় হকারদের মূল সড়ক থেকে সরিয়ে উপযুক্ত ও নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তরের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

বিজ্ঞাপন

কমিটির সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম জানান, নীতিমালা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে আরও একটি বৈঠকের মাধ্যমে খসড়া চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই নীতিমালাটি চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও দুই সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালায়। ১ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত পরিচালিত ওই অভিযানে ফুটপাত দখলকারীদের কাছ থেকে ১১ লাখের বেশি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি ৪৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে ১৭০টি ভিডিও মামলা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ দোকানপাট ও মালামাল জব্দ করা হয়।

গুলিস্তান, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত ও সায়েন্সল্যাবসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাময়িকভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করা সম্ভব হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যায়। পুনর্বাসনের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় হকাররা আবারও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

এ পরিস্থিতিতে হকারদের পক্ষ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হচ্ছে। তাদের মতে, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রম টেকসই সমাধান নয়।

গত ১৬ এপ্রিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে নেতারা পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদের বিরোধিতা করেন। সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাশিম কবির ও সাধারণ সম্পাদক হযরত আলীসহ অন্যান্য নেতারা হকারদের জীবিকা সুরক্ষায় ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবির মধ্যে ছিল—পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ বন্ধ, হকারদের অর্থনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি, জীবিকা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, চাঁদাবাজি বন্ধ, হয়রানি ও গ্রেপ্তার বন্ধ এবং প্রকৃত হকারদের তালিকা প্রণয়ন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া সরকারি খালি জায়গা দখলমুক্ত করে হকারদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া, পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং জাতীয় বাজেটে হকারদের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার দাবিও জানানো হয়।

এদিকে, ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে এবং তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আটটি নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। সংস্থাটির প্রশাসক জানান, দিনের ব্যস্ত সময় শেষে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের বসার সুযোগ তৈরি করা হবে, যাতে ফুটপাত ও সড়কে সারাদিনের বিশৃঙ্খলা কমে আসে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রণয়নাধীন নীতিমালাটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন রাজধানীর যানজট ও ফুটপাত দখল সমস্যা কমবে, অন্যদিকে হকারদের জীবিকা রক্ষার একটি টেকসই সমাধানও তৈরি হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD