সুনামগঞ্জে এত বজ্রপাত হয়, জানলে বিয়েই করতাম না: স্পিকার

জাতীয় সংসদে হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণহানির ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনার সময় এক ব্যতিক্রমী ও হালকা হাস্যরসপূর্ণ মন্তব্যে মুহূর্তেই দৃষ্টি কাড়ে পুরো অধিবেশন। সুনামগঞ্জ অঞ্চলে বজ্রপাতের উচ্চ ঝুঁকির কথা শুনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে হয়, জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে ৭১ বিধির আওতায় উত্থাপিত একটি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনার সময় এই মন্তব্যটি করেন স্পিকার, যা মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
আলোচনার শুরুতে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল তাঁর বক্তব্যে হাওর এলাকার জীবন-জীবিকা ও বজ্রপাতের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, তাঁর নির্বাচনী এলাকার চারটি উপজেলা হাওরবেষ্টিত হওয়ায় কৃষক ও জেলেরা সারা বছরই জীবিকার প্রয়োজনে হাওরে কাজ করেন। কিন্তু গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে আকস্মিক বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্প্রতি দেশে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চারজন তাঁর নির্বাচনী এলাকার।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ অঞ্চলে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২৫টিরও বেশি বজ্রপাত হয়। আগের সরকার বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করলেও বাস্তবভিত্তিক কার্যকর উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিজ্ঞাপন
এ সময় তিনি প্রতিটি হাওরে আশ্রয়কেন্দ্র ও বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের দাবি জানান।
এর জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে হাওর ও উত্তরাঞ্চলে এর প্রভাব বেশি পড়ছে। সরকার কৃষকদের নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে তিনি জানান।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের আগাম সতর্ক করতে হাওর অঞ্চলে সাইরেন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে মেঘ জমলে তারা নিরাপদ স্থানে যেতে পারেন। পাশাপাশি তালগাছ রোপণ ও বজ্রনিরোধক টাওয়ার স্থাপনের বিষয়েও গবেষণা ও উদ্যোগ চলমান। এমনকি বিধিমালা সংশোধন করে বজ্রপাতে গবাদিপশু মারা গেলেও কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মন্ত্রীর বক্তব্যের পরই স্পিকার হালকা হাস্যরসে বলেন, “এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে হয়, জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।” তাঁর এই মন্তব্য সংসদে হাস্যরসের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ ১৯৪৯ সালের ২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৫৪ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর গত ২৮ মার্চ তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।








