Logo

সাংবাদিকরা বাঁচলে দেশের রাজনীতিও বাঁচবে: সংসদে হুইপ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯:৫৭
সাংবাদিকরা বাঁচলে দেশের রাজনীতিও বাঁচবে: সংসদে হুইপ
ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার এবং পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, সাংবাদিক সমাজ শক্তিশালী থাকলে দেশের গণতন্ত্র ও রাজনীতি আরও সুসংহত হবে। সাংবাদিকরা বাঁচলে দেশের রাজনীতিও বাঁচবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ দুলু বলেন, সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে নবম ওয়েজ বোর্ড কার্যকর থাকলেও মালিকপক্ষের অনীহার কারণে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ফলে অনেক সাংবাদিক এখনও তাদের ন্যায্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই তাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও পেশাগত সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সাংবাদিকদেরও উপযুক্ত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু আরও বলেন, দেশের অনেক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা নিয়মিত বেতন পান না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন। সাংবাদিকরা স্বচ্ছল ও নিরাপদ থাকলে গণমাধ্যম আরও স্বাধীন, শক্তিশালী এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারবে।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে শিল্পখাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হলেও এখনো গণমাধ্যম শিল্পের পূর্ণ মর্যাদা পায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে তিনি অতীতে কিছু সাংবাদিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পেশাগত দায়িত্বের সীমা লঙ্ঘন করে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ভীতিকর রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে নতুন প্রজন্মের অনেকেই রাজনীতিতে আসতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছে। তরুণদের মধ্যে সেই ভয় দূর করে একটি ইতিবাচক, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যেসব রাজনৈতিক নেতৃত্ব কাজ করছেন, তাদের প্রচেষ্টায় দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারী বা অগণতান্ত্রিক শক্তি যেন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

হুইপ দুলুর বক্তব্যে সাংবাদিকদের অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক বিশেষভাবে উঠে আসে। তিনি মনে করেন, একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও সুরক্ষিত গণমাধ্যমই পারে গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে এবং দেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD