Logo

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের মামলা যাচাই হবে, তালিকা পাঠানোর নির্দেশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মে, ২০২৬, ১৫:০৫
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের মামলা যাচাই হবে, তালিকা পাঠানোর নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী ও গণহত্যা সংক্রান্ত মামলাগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নিজ নিজ জেলার মামলার বিস্তারিত তালিকা দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ দিনের এক অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন জেলায় বহু মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও রয়েছে। এসব মামলায় বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাই প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে মামলাগুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জেলা ভিত্তিক কতগুলো মামলা হয়েছে, তা জানতে তালিকা চাওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একই মামলায় হাজার হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যাচাই করে প্রকৃত আসামিদের চিহ্নিত করা হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করার চেষ্টা থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা হয়রানির জন্য মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে। তবে সবকিছুই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে।

ডিসিদের কাছে তালিকা পাঠানোর সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে এবং মৌখিকভাবে সর্বোচ্চ এক মাস সময় দেওয়া হয়েছে। কোনো ক্ষেত্রে বিলম্ব হলে তা ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিবেচনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, জেলা পর্যায়ে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম), পুলিশ সুপার (এসপি), পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এই কমিটি জনগণের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করছে। যাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা মিথ্যা মামলা হয়েছে, তারা নির্ধারিত ফরমে এফআইআর, এজাহার বা চার্জশিটসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, কমিটি যাচাই করে যদি দেখে কোনো মামলা মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তাহলে তা প্রত্যাহারের সুপারিশ করবে। এসব সুপারিশ প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসবে, পরে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে উপযুক্ত মনে করলে তা পুনরায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা অনেক গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে সরকার আগে থেকেই উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কিছু গুরুতর মামলা—যেমন হত্যা, অস্ত্র, নারী নির্যাতন, মাদক ও মানবপাচার—আগে এই প্রক্রিয়ার আওতায় ছিল না।

তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব গুরুতর মামলাও পুনর্বিবেচনার আওতায় আনা হয়েছে। তার দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার মধ্যে রাজনৈতিক নেতারাও ছিলেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু যাচাই নিশ্চিত করতে সরকার বর্তমান উদ্যোগ নিয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD