Logo

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ডিসিদের কড়া নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মে, ২০২৬, ১৫:২৬
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ডিসিদের কড়া নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু করা বিপুল সংখ্যক লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা না পড়ায় সেগুলো দ্রুত উদ্ধার ও বাজেয়াপ্ত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রায় ১০ হাজার অস্ত্র এখনো মাঠপর্যায়ে রয়েছে, যা আইন-শৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পার হওয়ার পরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। ফলে এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করতে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, অস্ত্রগুলো উদ্ধার করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য না দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যেসব আগ্নেয়াস্ত্র রাজনৈতিক প্রভাব বা নীতিমালা উপেক্ষা করে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিলের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে এসব লাইসেন্স যাচাই করা হবে। যেসব লাইসেন্সে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেগুলোর অস্ত্রই কেবল বাজেয়াপ্ত করা হবে।

তবে ২০০৯ সালের আগে বৈধভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রধারীরা যাচাই শেষে তাদের অস্ত্র ফেরত পাবেন বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক, চাঁদাবাজি এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধেও ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার যেমন সামাজিক অস্থিরতা বাড়ায়, তেমনি মাদকের বিস্তার সমাজের ভারসাম্য নষ্ট করে।

বিজ্ঞাপন

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অর্থ পাচার ও সামাজিক অবক্ষয় ঠেকাতে নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD