নবম পে-স্কেলে কত হচ্ছে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন?

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এগিয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বাজেটের খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে।
বিজ্ঞাপন
নতুন পে-স্কেলের খসড়ায় বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ এসেছে। নবম পে-কমিশন ২০টি গ্রেডে বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। এতে সর্বনিম্ন বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়েই এবারও পর্যায়ক্রমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকার দুটি পদ্ধতি নিয়ে ভাবছে। প্রথম পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিন বছরে ধাপে ধাপে পুরো কাঠামো কার্যকর করা হবে। এতে প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হতে পারে। এরপর দ্বিতীয় বছরে বাকি বেতন সমন্বয় এবং তৃতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা ধাপে ধাপে যুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে, বিকল্প হিসেবে দুই অর্থবছরের মধ্যে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। তারা মূল্যস্ফীতি, সরকারি ব্যয়ের চাপ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ দেবে।
বিজ্ঞাপন
ব্যয়ের দিক থেকে দেখা যাচ্ছে, নবম পে-স্কেল সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনে এবং বাকি অংশ পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে।
আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। এতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাদের জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তাই বিপুল আর্থিক চাপ সামাল দিতে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির কৌশল নেওয়ার দিকেই ঝুঁকছে সরকার।
সামগ্রিকভাবে, প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে, তবে এর সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।








