Logo

বিদ্যুতের দাম বাড়ার আভাস, ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের জন্য সুখবর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মে, ২০২৬, ১৭:৩৫
বিদ্যুতের দাম বাড়ার আভাস, ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের জন্য সুখবর
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের বর্তমান দাম অপরিবর্তিত রাখার চিন্তা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনাকে ঘিরে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ইতোমধ্যে দেশীয় বাজারে দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিদ্যুতের মূল্যও বাড়ানোর প্রস্তাব সামনে এসেছে।

বর্তমানে দেশে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ৮ টাকা ৯৫ পয়সা, যদিও গ্রাহকের ধরন ও ব্যবহারভেদে এ হার ভিন্ন। এই অবস্থায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, মঙ্গলবার (৫ মে) এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)। সেখানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, প্রস্তাবগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং আসন্ন ঈদুল আজহার আগে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তিনি আরও জানান, পাইকারি দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খুচরা পর্যায়ে মূল্য সমন্বয় করা হয়। এ কারণে পাইকারি পর্যায়ের প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়েই কারিগরি কমিটি কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে একটি বিতরণ সংস্থা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দিয়েছে, অন্যগুলোর প্রস্তাবও শিগগিরই জমা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এর প্রভাব খুচরা পর্যায়েও পড়বে, যেখানে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম রয়েছে ৭ টাকা ৪ পয়সা।

এদিকে নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ইতোমধ্যে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) সঞ্চালন চার্জ প্রতি ইউনিটে ১৬ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, মাসে ৭৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বর্তমান মূল্য অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এতে করে এই শ্রেণির ভোক্তাদের ওপর সরাসরি চাপ কম পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিডিবি জানিয়েছে, প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বাড়তে পারে। কারণ বাকি ৬৩ শতাংশ গ্রাহক ‘লাইফলাইন’ সুবিধার আওতায় রয়েছেন। ফলে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ওপরই মূলত বাড়তি ব্যয় চাপানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সব প্রস্তাব কারিগরি কমিটির মাধ্যমে মূল্যায়নের পর অংশীজনদের নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রস্তাবগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিইআরসি। বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় ও আয়ের ভারসাম্য, পাশাপাশি সরকারের ভর্তুকি নীতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে গড়ে ৮ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ব্যবধান থাকায় পিডিবিকে ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা নতুন করে মূল্য সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD