Logo

দেশি পশুতেই জমবে কোরবানির বাজার, লাভবানের আশাবাদী খামারিরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ মে, ২০২৬, ১৮:২২
দেশি পশুতেই জমবে কোরবানির বাজার, লাভবানের আশাবাদী খামারিরা
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো রাজশাহী বিভাগেও কোরবানির পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকতেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে গরু-ছাগল। খামারিরা বলছেন, উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে ভারতীয় গরুর প্রবেশ কমে যাওয়ায় দেশি পশুর চাহিদা বাড়বে—এমন প্রত্যাশা থেকেই ভালো দামের আশায় রয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে মোট ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু। এর মধ্যে গরু ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি, মহিষ ৩ হাজার ৪২৫টি, ছাগল ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি এবং ভেড়া ৪৩ হাজার ৪০৬টি।

অন্যদিকে, জেলার সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি পশু। সেই হিসাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অতিরিক্ত পশু শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখবে। শুধু রাজশাহী জেলা নয়, পুরো বিভাগজুড়েই পশুর সরবরাহ পরিস্থিতি বেশ ইতিবাচক।

বিজ্ঞাপন

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য বলছে, রাজশাহী বিভাগে প্রায় ৪৩ লাখ পশু প্রস্তুত রয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ। ফলে কোনো ধরনের পশু সংকটের আশঙ্কা নেই।

একসময় সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় গরুর আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সীমান্তে কড়াকড়ি নজরদারির কারণে গত কয়েক বছরে সেই প্রবণতা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে গবাদিপশু পালনে আগ্রহ বেড়েছে এবং বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক খামার। এতে একদিকে যেমন দেশীয় উৎপাদন বেড়েছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে রাজশাহী বিভাগজুড়ে তিন শতাধিক কোরবানির পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে বেচাকেনা শুরু হলেও ঈদের আগমুহূর্তে হাটগুলো জমজমাট হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা অনেক আগে থেকেই কোরবানির পশু প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছেন।

গোদাগাড়ীর খামারি আব্দুল মালেক জানান, দেশীয় পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন করেছেন তিনি। যদিও খাদ্য ও অন্যান্য খরচ বেড়েছে, তবুও বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন।

বিজ্ঞাপন

তানোর উপজেলার সুজন আলী বলেন, ছয় মাস আগে পরিকল্পনা করে গরু পালন শুরু করেছিলেন। শুরুতে খাদ্যের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও এখন পশুগুলো ভালোভাবে প্রস্তুত হওয়ায় ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

পবা উপজেলার খামারি রফিকুল ইসলাম প্রায় এক বছর ধরে গরু ও ছাগল পালন করছেন। তার মতে, এ বছর গো-খাদ্য ও ওষুধের দাম বাড়ায় খরচ বেশি পড়েছে। তবে বাজারে চাহিদা থাকায় লাভের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বাগমারা উপজেলার খামারি আকলিমা আক্তার জানান, ছোট আকারের পশুর চাহিদা বেশি থাকায় তিনি গরুর পাশাপাশি ছাগল ও ভেড়া পালন করেছেন, যা ঈদের বাজারে তুলবেন।

বিজ্ঞাপন

খামারিরা মনে করছেন, দেশীয় উৎপাদন বাড়লে বিদেশি গরুর ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।

নগরীর মোহনপুর এলাকার খামারি রুবেল হোসেন বলেন, দেশের মধ্যেই গরু উৎপাদন বাড়াতে পারলে একদিকে স্বনির্ভরতা আসবে, অন্যদিকে বাইরের ওপর নির্ভরতা কমবে।

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ড. আনন্দ কুমার অধিকারী জানিয়েছেন, হাটগুলোতে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভেটেরিনারি সেবা ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য এলাকায় সরবরাহে খামারিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, আগের বছরের মতো এবারও দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। অতিরিক্ত পশু সঠিকভাবে বাজারজাত করা গেলে খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, যা ভবিষ্যতে পশুপালনে আরও আগ্রহ বাড়াবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD