স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে বাড়ির পথে কফিনবন্দি বৃষ্টি

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করে একদিন দেশে ফিরবেন—এমন প্রত্যাশা নিয়েই মেয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিলেন বাবা–মা। পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পর পরিবারের গর্ব হয়ে ফিরবেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি, এমন স্বপ্ন ছিল স্বজনদের। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে নির্মম বাস্তবতায়।
বিজ্ঞাপন
জীবন্ত ও হাসিখুশি মেয়েটির পরিবর্তে এবার কফিনবন্দি মরদেহ গ্রহণ করতে হলো পরিবারকে। কান্না আর আহাজারির মধ্যেই বিমানবন্দর থেকে গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের পথে নেওয়া হয়েছে তার মরদেহ।
শনিবার (৯ মে) সকালে যুক্তরাষ্ট্রে নিহত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষায়িত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে মাদারীপুরে পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহবাহী গাড়িটি বিমানবন্দর ত্যাগ করে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
বিজ্ঞাপন
বিমানবন্দরে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৃষ্টির বাবা, মা, ভাই, মামা, নানা এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজনরা। কফিন বুঝে নেওয়ার মুহূর্তেই অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ কফিন স্পর্শ করে শেষ বিদায় জানান, আবার কেউ নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকেন শোকে স্তব্ধ হয়ে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য ছিল মায়ের আহাজারি। মেয়ের নাম ধরে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তিনি। উপস্থিত অনেকেই সেই দৃশ্য দেখে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি বিমানবন্দর এলাকা ছাড়ার সময় পরিবারের সদস্যদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্বজনদের বুকফাটা আহাজারিতে আশপাশের মানুষও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এর আগে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণের জন্য সকাল থেকেই বিমানবন্দরে অবস্থান করছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কফিনবন্দি মরদেহ দেখতে পেয়ে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম নেমে আসে।
বিজ্ঞাপন
বিমানবন্দরে উপস্থিত পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ সরাসরি মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা–দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটসের ইকে–০২২০ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। পরে দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে এমিরেটসের ইকে–০৫৮২ ফ্লাইটে শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছে মরদেহ। মরদেহ পাঠানোর সময় অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।








