Logo

এবারের ঈদযাত্রা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মে, ২০২৬, ১৮:২৮
এবারের ঈদযাত্রা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন মন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কপথে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ এবং সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতের কারণে এবারের ঈদযাত্রা কঠিন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সরকার বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে আয়োজিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সেতুমন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রতি বছর ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করে থাকে। এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পোশাক খাতের শ্রমিকদের ছুটির বিষয়ে। ধাপে ধাপে তিন থেকে চার দিনে গার্মেন্টস কারখানায় ছুটি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে একদিনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ তৈরি না হয়।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠনও পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, গত ঈদে ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকর না হওয়ায় শেষ মুহূর্তে গাজীপুর ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের চাপ তৈরি হয়েছিল। একদিনেই সেখানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ যাত্রীর সমাগম ঘটে, যা যানজট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

ঘরমুখো মানুষের আচরণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, অধিকাংশ যাত্রী দ্রুত বাড়ি পৌঁছানোর জন্য ছুটির দিনেই রাস্তায় নেমে পড়েন। এ সময় তারা বাস, ট্রাক, পিকআপসহ যেকোনো যানবাহনে ওঠার চেষ্টা করেন। অনেকেই নির্ধারিত বাস কাউন্টার বা টিকিট ব্যবস্থার বাইরে যাতায়াত করতে চান, যা সড়কে বিশৃঙ্খলা বাড়ায়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, যাত্রীরা যখন অনিরাপদ বা ফিটনেসবিহীন যানবাহনে ওঠেন, তখন দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে রাস্তার মাঝপথ থেকে যাত্রী ওঠানামার কারণে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে এবারের ঈদযাত্রায় সারা দেশে ৬৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

সম্ভাব্য বৃষ্টিপাতকে এবারের ঈদযাত্রার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সেতুমন্ত্রী। তার ভাষ্য, বৃষ্টি শুরু হলে সড়কে যানজট দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। গতবারের ঝড়-বৃষ্টির অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করে।

বিশেষ করে কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের চলাচল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। বৃষ্টির কারণে সড়কে গতি কমে গেলে এসব যানবাহনের কারণে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

ভাড়া নিয়ে অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ভাড়া সমন্বয় করেছে এবং নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। তবে সড়কের মাঝপথ থেকে যাত্রী ওঠানো হলে সেখানে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপরও যাত্রী নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

ফেরি পারাপারের বিষয়ে নতুন নির্দেশনার কথাও জানান সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফেরিতে ওঠার আগে বাস থেকে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হবে। যাত্রী নামানো ছাড়া কোনো বাস ফেরিতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ব্যারিকেড বসানো হবে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া সদরঘাট এলাকায় বোট বা স্পিডবোট থেকে সরাসরি লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখার কথাও জানান তিনি। সরকারের আশা, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD