Logo

ঈদযাত্রা : ম্যাজিস্ট্রেটসহ ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে কন্ট্রোল রুম

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মে, ২০২৬, ২২:০০
ঈদযাত্রা : ম্যাজিস্ট্রেটসহ ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে কন্ট্রোল রুম
ফাইল ছবি

আসন্ন ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও যানজটমুক্ত রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। যাত্রী ভোগান্তি কমানো, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকানো এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আগামী ২০ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সদর দপ্তরে ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। একই সঙ্গে অনিয়ম দমনে মাঠে নামানো হবে অতিরিক্ত ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১১ মে) দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক, টোলপ্লাজা এবং যানজটপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি ও পরিবহন খাতে বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিআরটিএর ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে আরও ৫০ জন নির্বাহী হাকিম যুক্ত করা হবে, যারা সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।

এছাড়া রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়াসহ দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনালে বিশেষ ভিজিল্যান্স ও মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। এসব টিম অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন এবং নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অর্থ আদায়ের মতো অনিয়ম নজরদারিতে রাখবে।

শেখ রবিউল আলম আরও জানান, ঈদের আগে সাত দিন এবং ঈদের পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টোলপ্লাজা ও যানজটপ্রবণ এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিজিবি মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রোভার স্কাউট সদস্যদেরও মাঠে সক্রিয় রাখা হবে।

বিজ্ঞাপন

ঈদযাত্রায় যাত্রীচাপ সামাল দিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে বিশেষ ঈদ সার্ভিস চালু করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে যাত্রীচাপ বিবেচনায় মেট্রোরেলের চলাচলের ব্যবধান বা হেডওয়ে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কিছু বিশেষ পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়। দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কে কনভেক্স ব্লাইন্ড স্পট মিরর বসানো, ঝুঁকিপূর্ণ ব্ল্যাক স্পটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো এবং চালকদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কাজে স্বাস্থ্য বিভাগের ১০টি বিশেষ মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমানো এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ হ্রাসে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি আরও বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনা শুধু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্ব নয়; হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ, স্থানীয় প্রশাসন, এলজিআরডিসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৩৮৪ জনে পৌঁছায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ঈদুল ফিতরের ১১ দিনে সারাদেশে ১৭০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ৪৩ জন মারা যান মহাসড়কে।

মন্ত্রী দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চলাচল এবং ছোট রাস্তা থেকে সরাসরি ৯০ ডিগ্রি কোণে মহাসড়কে ওঠাকে দায়ী করেন। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এসব সংযোগপথকে ‘লেফট লেন’ ব্যবস্থায় আনার কাজ শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD