ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আরও নিরাপদ হবে: সেতুমন্ত্রী

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আরও নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, গত ঈদে যেসব জায়গায় সামান্য সমস্যা বা ব্যত্যয় দেখা গিয়েছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে এবার আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১৭ মে) দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভার রজনীগন্ধা মিলনায়তনে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় যান। সাধারণত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই এই বিশাল জনগোষ্ঠীর যাত্রা সম্পন্ন করতে হয়। এত অল্প সময়ে নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা সহজ নয়, তবে সরকারের প্রস্তুতি এবার আগের তুলনায় আরও সুসংগঠিত।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, গত ঈদযাত্রা মোটামুটি সফল হলেও কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা দেশবাসীকে ব্যথিত করেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কোরবানির পশু পরিবহন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ঈদুল আজহায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় পশুবাহী যানবাহনের কারণে। এবার প্রায় ৮০ লাখ কোরবানিযোগ্য পশু পরিবহন করা হবে। এ কারণে মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসানো বা সড়ক দখল করে অস্থায়ী বাজার স্থাপনের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, অতীতে যানজটপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত প্রায় ২০৮টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালত, হাইওয়ে পুলিশ ও সার্বক্ষণিক তদারকির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ টিম কাজ করবে।
তিন চাকার যানবাহন নিয়েও সরকারের কড়াকড়ির কথা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিতভাবে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে জনবল সংকট বড় একটি চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সড়কপথে খুব সীমিত সংখ্যক হাইওয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন। তারপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেন। মন্ত্রী বলেন, যাত্রী ও চালক সবাই সচেতন হলে এবং আইন মেনে চললে ঈদযাত্রা আরও সুশৃঙ্খল হবে।
বিজ্ঞাপন
ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। সেতুমন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের ঝুঁকিতে ফেলে কোনোভাবেই অযোগ্য বা ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও বিশেষ মোবাইল টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে।
ঈদের সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোথাও অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
তবে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সময় যাত্রীরা মাঝপথ থেকে তাড়াহুড়ো করে বেশি ভাড়া দিয়ে যানবাহনে ওঠেন, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদুল ফিতরে যেখানে সারা দেশে ২৫টি মোবাইল কোর্ট কাজ করেছিল, এবার ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৯টি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া।








