পশুর হাটের পাশাপাশি জমে উঠেছে কোরবানির সরঞ্জামের বাজার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিটি হাটে জমে উঠেছে পশু বেচাকেনা। পাশাপাশি হাটের ভেতরেই বেড়েছে কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় ছুরি, চাপাতি, দা, বটি ও হাড় কাটার সরঞ্জামের বিক্রি। একই সঙ্গে এসব পণ্যের দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে সিটি হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা খামারি ও ক্রেতাদের ভিড়ে হাটটি এখন সরগরম।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক আজ
সরেজমিনে দেখা গেছে, পশুর হাটের ভেতরেই অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা কামারদের দোকানে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। ক্রেতারা গরু কেনার পাশাপাশি এক জায়গা থেকেই ছুরি, চাপাতি, দা, বটি এবং হাড় ভাঙার যন্ত্রপাতিও কিনে নিচ্ছেন। এতে কোরবানির প্রস্তুতি এক জায়গাতেই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বিক্রেতারা জানান, এ বছর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরঞ্জামের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজি লোহার তৈরি পণ্য এখন প্রায় ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ৭০০ টাকার মধ্যে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, লোহা ও রডের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়াতে হয়েছে বলে দাবি তাদের।
হাটের এক বিক্রেতা বলেন, ঈদের আগে ব্যবসা ভালো হলেও এবার কাঁচামালের দাম অনেক বেশি। লোহা, কয়লা ও স্টিলের দাম বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই প্রতিটি পণ্যে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হচ্ছে। অনেক ক্রেতা দাম শুনে চলে গেলেও প্রয়োজনীয় হলে কিনছেন।
রাজশাহী নগরীর তালাইমাড়ি এলাকা থেকে আসা ক্রেতা ইকবাল হোসেন বলেন, গরু কেনার পর আলাদা করে সরঞ্জাম কেনা ঝামেলার। এখানে সব একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে, তাই সুবিধা হচ্ছে। তবে বাজারের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি মনে হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে শিরোইল এলাকার সোবহান মোল্লা এখনো গরু না কিনলেও আগেই কোরবানির সরঞ্জাম কিনে নিয়েছেন। তার মতে, ঈদের সময় কাছে এলে ভিড় বাড়ে এবং দামও আরও বেড়ে যায়, তাই আগেভাগে কেনাই ভালো।
সিটি হাটের ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার বলেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, বিক্রি ততই বাড়ছে। শেষ সপ্তাহে ছুরি-চাপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জামের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবার দাম কিছুটা বেশি হলেও ভালো মানের পণ্যের চাহিদা রয়েছে।








