Logo

বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে: মির্জা ফখরুল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ জুন, ২০২৬, ১৮:১৭
বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে: মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাজেটটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করে বিএনপি সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তাতে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার আন্তরিকতা এবং দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন রয়েছে। তার মতে, বাজেটটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর সৃজনশীলতা এবং নতুন ধরনের উদ্যোগ।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে তিনি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে মনে করেন। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারপ্রধান নারী এ কর্মসূচির আওতায় আসবেন এবং তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্যও বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, পানি সংরক্ষণ এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

বিজ্ঞাপন

দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাজেটের বিভিন্ন প্রণোদনার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন সম্প্রসারণে কর-সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা রাখা হয়েছে। দেশে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে বিদেশি আমদানির ওপর প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগও রয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাজেটে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক সম্মানী চালু, নতুন ক্রীড়া আয়োজন এবং খেলাধুলার পরিবেশ পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু এবং দেশের ৬৪ জেলায় বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, সংস্কৃতি খাতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ কর্মসূচির আওতায় মৃৎশিল্প, বুননশিল্প, শীতলপাটি ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে চিহ্নিত করে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে লোকজ ও হস্তশিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকার পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১৬০ একর জমির ওপর বিশ্বমানের একটি ক্রিয়েটিভ হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।

বিজ্ঞাপন

কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ, প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন, প্রবাসী কার্ড চালু, হাইটেক পার্কে ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাজেটের প্রায় প্রতিটি খাতেই কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কর-ছাড় ও প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টিকেও ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। একইভাবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১ দশমিক ০১ শতাংশ হয়েছে। এসব উদ্যোগ মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনা ও ভাবনার আলোকে অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও নিয়ন্ত্রণ কমানো হয়েছে। কর পরিশোধ, তথ্য জমা এবং রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ব্যবসা পরিচালনাকে সহজ করবে।

বিজ্ঞাপন

রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, শুধু করের হার বৃদ্ধি নয়, বরং করদাতার সংখ্যা বাড়ানো, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উৎসে কর যাচাইয়ের সময় কমানো, কর ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করা এবং করের আওতা সম্প্রসারণের উদ্যোগও রয়েছে।

তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী ও উৎপাদনমুখী শিল্পখাতের জন্য কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে এ বাজেট দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন বাড়লে বাজারে সরবরাহও বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি স্বাভাবিকভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

তিনি আরও বলেন, সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণকে বিবেচনায় রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে এবং জনগণ এর সুফল ভোগ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD