Logo

দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ৪১ হাজারের বেশি ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি হয়েছে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জুন, ২০২৬, ১৭:৩৪
দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ৪১ হাজারের বেশি ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে দেশে এ পর্যন্ত ৪১ হাজার ৫৫৫টি নমুনার ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি এবং দেশের সাতটি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে এসব প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সেলিমা রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০২৬ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে পাস হয়েছে। শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধের বিচার এ আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। পাশাপাশি ডিএনএ আইন, ২০১৪ অনুযায়ী অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীর সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর করা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করার বিধানও যুক্ত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশুর সুরক্ষায় জাতীয় নারী নীতি-২০১১, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০২৬, ডিএনএ আইন-২০১৪ ও বিধিমালা-২০১৭, বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা-২০১৮ এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনাসহ বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের সহায়তায় সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে পর্যায়ক্রমে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বর্তমানে ১৪টি ওসিসির মাধ্যমে চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, পুলিশি সহযোগিতা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, পুনর্বাসন এবং আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এসব সেবা থেকে ৮২ হাজার ৬৭৮ জন উপকৃত হয়েছেন।

এ ছাড়া জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ৯৫টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে এক লাখ ৭০ হাজার ৫২৩ জন নারী ও শিশুকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য চালু থাকা জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯-এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৮৮ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪০ জনকে বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মনোসামাজিক সহায়তার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ঢাকায় ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৭টি আঞ্চলিক ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় ও আটটি আঞ্চলিক কেন্দ্র থেকে মোট ৩৮ হাজার ৬১ জন নারী ও শিশুকে কাউন্সেলিং সেবা দেওয়া হয়েছে।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয় থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হেল্পলাইনের তথ্যের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার ৮২৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের কাজ চলছে। একই সঙ্গে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়নের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংসদকে জানান মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD