Logo

ঈদের পরও মে মাসের বেতন পাননি মাদ্রাসা শিক্ষকরা: নুরুল আমীন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জুন, ২০২৬, ১৮:৫৮
ঈদের পরও মে মাসের বেতন পাননি মাদ্রাসা শিক্ষকরা: নুরুল আমীন
ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. নুরুল আমীন। তিনি বলেছেন, ঈদুল আজহা পেরিয়ে গেলেও জুন মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দেশের মাদ্রাসা শিক্ষকদের মে মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি, যা তাদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম কার্যদিবসে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে নুরুল আমীন শিক্ষকদের মানবিক সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংসদে আসার আগে একজন শিক্ষক তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যক্তিগত দুর্দশার কথা জানিয়েছেন। ওই শিক্ষক তার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে পারছেন না, কারণ এখনো তার বেতন হাতে পৌঁছেনি।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সাধারণত মাসের শুরুতেই পরিশোধ করা হয়, যাতে তারা পরিবারের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতে পারেন। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষকদের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না। ফলে তারা আর্থিক সংকটে পড়ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে জরুরি পারিবারিক দায়িত্বও পালন করতে পারছেন না।

সংসদ সদস্য বলেন, জুন মাসের ১৬ তারিখ চলে এলেও অধিকাংশ মাদ্রাসা শিক্ষক এখনো মে মাসের বেতন পাননি। বেতন পরিশোধে এমন বিলম্ব শিক্ষকদের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে।

তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষকদের বেতন নিয়মিত ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রদান নিশ্চিত করা উচিত। বিশেষ করে মাসের শুরুতেই বেতন দেওয়া গেলে শিক্ষকরা উপকৃত হবেন এবং তাদের আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমে আসবে।

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি মানবিক আবেগের সঙ্গে শিক্ষকদের দুর্দশার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একজন সন্তানের জন্য মায়ের চিকিৎসা করানো বা পরিবারের প্রয়োজন মেটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিক্ষক যেন এমন পরিস্থিতিতে না পড়েন, যেখানে তিনি নিজের পরিবারের মৌলিক প্রয়োজনও পূরণ করতে ব্যর্থ হন।

নুরুল আমীন আরও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি এখনো পূরণ হয়নি। তাদের বেতন-ভাতা, চাকরির নিরাপত্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের বিষয়গুলো নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় তিনি দেশের ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর অবস্থার কথাও তুলে ধরেন। প্রাথমিক স্তরের ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনার দাবি জানান।

সংসদ সদস্যের মতে, ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো সরকারিকরণ করা হলে শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD