বন্যায় প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে দেশের ৪ জেলা

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২০ জুন) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁতে বা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি সমতল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী তিন দিনও পানির এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে চার জেলার বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা কয়েক দিনের জন্য পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সম্ভাব্য এ বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও স্থানীয় জনজীবন, কৃষিজমি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী বসতি ও কৃষি নির্ভর এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে। তবে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশের উজান এলাকাতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যা বাংলাদেশের নদ-নদীর পানির প্রবাহ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে আপাতত এসব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না দেখা গেলেও সপ্তাহের শেষভাগে কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
শুধু উত্তরাঞ্চল নয়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও পানি বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়তে থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
একই সময়ে সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, কংস ও ভুগাই নদীর পানিও বাড়ছে। ফলে নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ এবং শেরপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকার স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
বিজ্ঞাপন
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং আবহাওয়ার পরিবর্তন সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত নতুন সতর্কবার্তা জারি করা হবে।
এদিকে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা, জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংরক্ষণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত এবং উজানের পানির প্রবাহের ওপর নির্ভর করবে পরিস্থিতির চূড়ান্ত রূপ। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থেকে নিয়মিত আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করা প্রয়োজন।








