Logo

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একই ভাবে দেখার সুযোগ নেই

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ জুন, ২০২৬, ১৯:১৪
মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একই ভাবে দেখার সুযোগ নেই
ছবি: সংগৃহীত

মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, দুটি ঘটনাই জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই উভয় আন্দোলনের আত্মত্যাগকে যথাযথ সম্মান জানাতে হবে, তবে একটির সঙ্গে অন্যটির তুলনা করা সমীচীন নয়।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম কার্যদিবসে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তিনি একজন শহীদ পরিবারের সন্তান। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার বাবা শহীদ হন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছেন এবং দুই লাখ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এখনও বহু শহীদের নাম সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি কিংবা ইতিহাসে যথাযথভাবে সংরক্ষিত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ ইতিবাচক এবং এটি প্রশংসার দাবিদার। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ, আর ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে একটি গণতান্ত্রিক গণআন্দোলন। তাই দুটি ঘটনাকে একই কাঠামোয় বিচার করা উচিত নয়।

আসাদুল হাবিব দুলু আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে তিনি ও তার রাজনৈতিক দল সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সেই আন্দোলনের প্রতিও তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, গত ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা নিহত, আহত কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদেরও রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির আওতায় আনা জরুরি।

একটি ঘটনার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি এক মা তার কাছে এসে অভিযোগ করেন, তার সন্তান দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের তালিকা তৈরি হলেও পূর্ববর্তী বছরগুলোর আন্দোলনে নিহত ও আহতদের কোনো তালিকা করা হয়নি। এই বৈষম্য দূর করতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান, গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত, নিহত ও আহতদেরও দ্রুত গেজেটভুক্ত করা হোক।

বিজ্ঞাপন

সংসদে বক্তব্যের আরেক অংশে দেশের সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই একটি সমাজ উন্নত হয় না। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, মাদক, জুয়া, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কঠোর আইন প্রয়োজন হলেও শুধুমাত্র শাস্তির বিধান বাড়িয়ে এসব অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হয়নি। রামিসা ও নন্দিনীর মতো শিশুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক আন্দোলনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু জানান, আগামী ৪ তারিখ লালমনিরহাটে ‘আলোকিত লালমনি’ নামে একটি সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। পাঁচ ধরনের সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পরিচালিত এ উদ্যোগে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। তিনি দেশের সব সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বর্তমান জাতীয় সংসদের পরিবেশ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে। সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার নিয়মিত উপস্থিতি এবং বাজেট আলোচনায় বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথে ভিন্নমতকে মূল্যায়ন করা জরুরি। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অযাচিত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা সংকট সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ব্যবহৃত কিছু অশোভন ও অশালীন স্লোগান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের বড় বড় গণআন্দোলনের মতো এ আন্দোলন থেকেও আরও মার্জিত ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ হওয়া প্রত্যাশিত ছিল।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD