Logo

বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ জুলাই, ২০২৬, ১৪:২৯
বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সহ দেশের বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৫ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী পিজিআরের সাবেক ও বর্তমান সব কর্মকর্তা এবং সদস্যকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই গার্ডসের লক্ষ্য’—এই মূলমন্ত্র ধারণ করে বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব, সাহস ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান বলেন, পিজিআরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমার জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ এবং হৃদয় বিদারক ঘটনা, আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের কথা মনে পড়ছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে  চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের সময় কর্তব্য পালনরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও শহীদ হয়েছিলেন। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি পিজিআরের সেই সকল শহীদদের  গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আল্লাহর দরবারে তাদের মাগফিরাত কামনা করছি।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নির্মম মৃত্যুর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার প্রতি অটল আনুগত্য, কর্তব্যপরায়নতা এবং জীবন উৎসর্গের যে চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে এটি অবশ্যই পিজিআরের সদস্যদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সরকারপ্রধান বলেন, উপস্থিত গার্ডস অফিসার, জেসিও ও সৈনিকবৃন্দ, মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১৯৭৫ সালের এইদিনে প্রথমে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তীতে, তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের  ১৯ সেপ্টেম্বর ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’কে ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করেন। এই নতুন নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরও আত্মপ্রত্যয়ী এবং গতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে। পিজিআর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান একটি অবিস্মরণীয় এবং অনুপ্রেণামূলক নাম।  

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান বলেন, আমার বাবা-মা, দুজনই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র এবং সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় সঙ্গতকারণেই পিজিআরের কার্যক্রমের সঙ্গে আমি কিশোর বেলা থেকেই পরিচিত। পিজিআরের কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। কারণ, রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্বপালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনাদেরকে নানারকমের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। এইসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতার বৈশিষ্ট আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃংখল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।

তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি, সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতি স্বরূপ ‘পিজিআর’ চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। একটি বাহিনী হিসেবে এটি অবশ্যই আপনাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই সাফল্যের জন্য আমি আপনাদেরকে আবারও অভিনন্দন জানাই। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আপনাদের ইস্পাত কঠিন দায়িত্ববোধ অবশ্যই প্রশংসনীয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি জানি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হতে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যগণই এই রেজিমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য যথানিয়মে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। অর্থাৎ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সেনাবাহিনীরই অধীন একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, পেশাদারিত্ব, আনুগত্য এবং শৃঙ্খলার সমন্বয়ে পিজিআর সদস্যগণ নিজেদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করবেন, এটিই বিধিবদ্ধ নিয়ম। আপনাদের কার্যক্রমের মাধ্যমেই পিজিআরের দক্ষতা এবং একনিষ্ঠতা ফুটে উঠবে, এটি আমার প্রত্যাশা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, পিজিআরের সদস্যগণ আপনারা যেহেতু সবাই সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্য ফলে আপনারাও সবাই বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত, যা আপনাদের এই রেজিমেন্টকে আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী, এবং গৌরবান্বিত করেছে বলে আমি মনে করি। সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জনগণের সাহস এবং গৌরবের প্রতীক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।

তারেক রহমান বলেন, যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুধুমাত্র পিজিআরই নয়; প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। 

বিজ্ঞাপন

সরকারপ্রধান বলেন, একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরের পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। আমি এর আগে এসএসএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমার একটি উপলব্ধির কথা শেয়ার করেছিলাম। যেহেতু আপনারাও রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত, সেহেতু আপনাদের জন্যও কথাটি প্রযোজ্য বলে আমি মনে করি। সেটি হলো— একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়শঃই জনসভা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে হয়। ফলে, সেই সকল অনুষ্ঠানে আপনাদেরকেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবে, এই ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই কিছুটা জটিলতাপূর্ণ। এসব কর্মসূচির পালনের সময় একদিকে সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা, অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখা— এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই আপনাদেরকে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়। তবে, আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে বিন্যাস করা জরুরি; জনগণ যাতে নিজেদেরকে সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন।  

তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা এবং নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকেও আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।  

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্র বাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ করে এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখে, তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনই হুমকির সম্মুখীন হবে না, ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করব, পিজিআরের মত বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অফ কমান্ড’ অনুসরণ— এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

সবশেষে, পিজিআরের গৌরবময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে বাহিনীর সকল সদস্যের সুস্বাস্থ্য, মঙ্গল ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন তারেক রহমান।  

বিজ্ঞাপন

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD