Logo

ডিজিটাল বাছাইয়ে ইউরোপে যাচ্ছেন আনসার-ভিডিপির নারী সদস্যরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ জুলাই, ২০২৬, ২০:২২
ডিজিটাল বাছাইয়ে ইউরোপে যাচ্ছেন আনসার-ভিডিপির নারী সদস্যরা
ছবি প্রতিনিধি।

ইউরোপে বৈধ ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণী। কিন্তু দালালের প্রতারণা, অবৈধ অভিবাসন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশযাত্রার কারণে প্রতিবছর অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, এমনকি প্রাণও হারাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

এই বাস্তবতায় সম্পূর্ণ বৈধ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়ায় ইউরোপের দেশ মলদোভায় দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর আনসারের ৩০০ জন শহর প্রতিরক্ষা দল নারী সদস্যকে বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দালালনির্ভর অভিবাসনের পরিবর্তে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাহিনীর মহাপরিচালকের পরিকল্পনায় পাঁচটি পৃথক বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটি কঠোর শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করছে। বাহিনীর সদর দপ্তরে নিরাপদ পরিবেশে পরিচালিত এই নির্বাচন কার্যক্রম দেশের জনশক্তি রপ্তানি ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বুধবার (৮ জুলাই) প্রথম ধাপে ঢাকা মহানগর আনসারের উত্তর ও পূর্ব অঞ্চলের ১৩৯ জন যোগ্য নারী সদস্য বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। শুরুতেই তারা নির্ধারিত স্বঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। এরপর প্রচলিত কাগজ-কলমের পরিবর্তে নিজ নিজ স্মার্টফোন ব্যবহার করে ইলেকট্রনিক ফরমের মাধ্যমে সরাসরি লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। পুরো পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিবিড়ভাবে তদারকি করেন, যাতে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ না থাকে।

বিজ্ঞাপন

লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি প্রার্থীদের উচ্চতা, ওজনসহ শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়। পরে পাঁচটি বাছাই কমিটির সমন্বয়ে গঠিত বিচারক প্যানেলের সামনে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন তারা। প্রতিটি ধাপের ফলাফল একটি বিশেষ সফটওয়্যারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেধাতালিকা প্রস্তুত হওয়ায় মানবীয় হস্তক্ষেপ, তদবির বা কারচুপির সুযোগ থাকছে না।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রথম ধাপের কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা মহানগর আনসারের দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চলের আরও ১৬১ জন নারী সদস্য একই প্রক্রিয়ায় বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেবেন। একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর মূল্যায়ন এবং কঠোর তদারকির মধ্য দিয়ে তাদের লিখিত, শারীরিক ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। স্বচ্ছ ও ডিজিটাল এই মূল্যায়ন পদ্ধতিতে অংশ নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যেও আস্থা ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, শুধু যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য নয়; আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাও এর অন্যতম লক্ষ্য। নির্বাচিতদের জন্য ইউরোপের কর্মপরিবেশ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার উপযোগী বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, ভাষাগত প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা, কর্মনৈতিকতা ও মানসিক সক্ষমতা উন্নয়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে তারা বিদেশে কর্মক্ষেত্রে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউরোপে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখা দেশের হাজারো নারীর জন্য এ উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। দালালমুক্ত, বৈধ এবং সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক এই নির্বাচন পদ্ধতি সফল হলে তা দেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নিরাপদ অভিবাসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু নির্বাচিত নারীদের কর্মসংস্থান ও আর্থিক অবস্থার উন্নয়নই নয়, দেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বাড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD