ফ্যাসিস্ট সরকার অর্থনীতি ও সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তার ভাষায়, দেশ একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছে এবং বিগত সরকারের কারণে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে সমতল অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখনকার লড়াই অনেক বড়। এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে। প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ পাচার না হলে দেশের অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতো।”
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সরকার সচেতন। পর্যায়ক্রমে যেসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ দেশের ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র গঠনই সরকারের লক্ষ্য, যেখানে কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না। সবার অংশগ্রহণে একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, সমতলের আদিবাসী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে জাতিভিত্তিক পরিচয়ের স্বীকৃতি, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির আইনগত মালিকানা নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণসুবিধা এবং বিভিন্ন প্রকল্প ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নামে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, আগের সরকার একটি প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরে বিএনপি সরকারের সময় এসব হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত করা হয়। বর্তমান সরকার সেগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। অন্যদিকে, আগের সরকারের প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অনেকগুলো কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এ সময় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কিডনি ডায়ালাইসিস, হার্টের রিংসহ জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর আরোপিত কর কমানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।








