Logo

মাইক্রোপ্লাস্টিক গবেষণা প্রকাশে আইন চায় শিল্পমহল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুলাই, ২০২৬, ১৯:১৪
মাইক্রোপ্লাস্টিক গবেষণা প্রকাশে আইন চায় শিল্পমহল
ছবি: সংগৃহীত

টুথপেস্টসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে কোনো বেসরকারি সংস্থা গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করা এবং যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে এ ধরনের গবেষণা প্রকাশের জন্য একটি সুস্পষ্ট আইন বা নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক গণশুনানিতে শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা এসব দাবি তুলে ধরেন।

গণশুনানিতে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসটিআইয়ের পরিচালক (প্রশাসন) মো. সাইফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্কয়ার, প্রাণ-আরএফএল, নেসলে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল, ট্রান্সকম কনজুমার প্রোডাক্টস, আকিজ রিসোর্স, নিউজিল্যান্ড ডেইরি বাংলাদেশ, এসিআই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ইউনিলিভার বাংলাদেশ, মেরিকো বাংলাদেশ, মেঘনা গ্রুপ, রেকিট বেনকিজার, আরলা ফুডস বাংলাদেশ, ইফাদ গ্রুপ, নাবিস্কো বিস্কিট ও মেগা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা বিএসটিআইয়ের সেবার মানোন্নয়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সুপারিশও উপস্থাপন করেন।

বিজ্ঞাপন

বক্তারা বলেন, কোনো গবেষণা প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তা উপস্থাপন করে যাচাইয়ের সুযোগ দিলে বিভ্রান্তি কমবে এবং অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক সৃষ্টি হবে না। তাদের মতে, যাচাই ছাড়া গবেষণার ফলাফল প্রকাশ হলে ভোক্তাদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের সুনাম ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বলেন, গবেষণাকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করেন এবং দেশে মানসম্মত গবেষণা পরিচালনার পক্ষে অবস্থান নেন। তবে গবেষণার ফলাফল প্রকাশের আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করা হলে বিষয়টি আরও কার্যকরভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হতো এবং জনমনে অযথা উদ্বেগও তৈরি হতো না।

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে এ উপাদানের গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে আন্তর্জাতিক মান সংস্থা আইএসওসহ অন্যান্য মানদণ্ড পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই এ নিয়ে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

স্কয়ার গ্রুপের লিগ্যাল অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সিনিয়র লিগ্যাল কাউন্সেল মো. সোহেল হোসেন বলেন, টুথপেস্ট বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক মান সনদের আওতাভুক্ত একটি পণ্য। ফলে এ ধরনের পণ্য নিয়ে কোনো গবেষণার ফলাফল প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। কারণ সব গবেষণাই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে—এমন নিশ্চয়তা সবসময় থাকে না।

তার ভাষ্য, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে গবেষণার তথ্য যাচাই করা হলে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে আসবে এবং বিভ্রান্তি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।

অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং উপদেষ্টা মো. শফিকুর রহমান ভুইয়া সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, কয়েকটি বেকারি পণ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেট থাকার দাবি প্রকাশের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কিন্তু পরে বিএসটিআইয়ের স্বীকৃত পরীক্ষাগার এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) পরীক্ষায় ওই উপাদানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবুও নেতিবাচক প্রচারণার কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের মতে, যাচাইবিহীন বা অসম্পূর্ণ গবেষণার তথ্য প্রকাশের ফলে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভোক্তারা বিভ্রান্ত হন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাজার, ব্র্যান্ড ইমেজ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তারা আরও বলেন, ভোক্তা অধিকার রক্ষার পাশাপাশি শিল্পখাতের স্বার্থ সংরক্ষণেও গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য দ্রুত একটি সুস্পষ্ট আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

গণশুনানিতে বিএসটিআইয়ের সেবা আরও সহজ ও আধুনিক করার বিভিন্ন প্রস্তাবও উঠে আসে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু, সব ধরনের আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথি অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ, নতুন লাইসেন্সের পাশাপাশি নবায়ন কার্যক্রমও সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা এবং ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য গ্রোয়িং-আপ মিল্কের বাংলাদেশ মান নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমবে এবং শিল্পখাত আরও কার্যকরভাবে সেবা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD