ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ১২ জেলায় বন্যার শঙ্কা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১২ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। ঝুঁকিতে থাকা জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র প্রকাশিত সর্বশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী দুই দিনে দেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ সংলগ্ন উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিলেট ও সুনামগঞ্জ: পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) স্টেশনে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
রংপুর অঞ্চল: লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা স্বল্পমেয়াদে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ধরলা নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকা (কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া): ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আগামী ৫ দিনে তা কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ: সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নেত্রকোণার কিছু স্থানে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ভুগাই ও কংস নদীর পানি শেরপুর, ময়মনসিংহ এবং নেত্রকোণার কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এর ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।








