ঢাকার সাবেক এসপি আসাদুজ্জামান চাকরি থেকে বরখাস্ত

কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার সাবেক জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘পলায়ন’র অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিভাগীয় মামলার নথি অনুযায়ী, ঢাকা জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৭ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আসাদুজ্জামানকে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে (বিপিএ) সংযুক্ত করা হয়। তিনি ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বিপিএতে যোগ দেন।
পরে ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ছুটি কাটানোর উদ্দেশ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্বাহ্নে একাডেমি ত্যাগ করেন তিনি। তবে ছুটি শেষ হওয়ার পর আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। তাকে কাজে ফেরাতে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিজ্ঞাপন
এরপর পুলিশ অধিদপ্তর থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি নোটিশের জবাব দেননি এবং সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।
অভিযোগটি গুরুদণ্ডযোগ্য হতে পারে বিবেচনায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো উপযুক্ত গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না কেন, তা জানতে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
পরে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রেখে বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শের জন্য পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট পিএসসি তাকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেয়।
বিজ্ঞাপন
বিভাগীয় নথি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুসারে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি হওয়ায় গুরুদণ্ড দেওয়ার জন্য তার অনুমোদন নেওয়া হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি এতে অনুমোদন দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর করে আসাদুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।








