Logo

অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপিসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৩৬
অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপিসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত
ছবি: সংগৃহীত

কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন ছয় কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার, সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার, এন্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) সাবেক পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা পৃথক ছয়টি প্রজ্ঞাপনে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিভাগীয় মামলায় তাদের চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাকে কাজে যোগদানের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ ও নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে কার্যকরভাবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাবেক ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানও অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে বরখাস্ত হয়েছেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সংযুক্ত হওয়ার পর ছুটি শেষে তিনি আর কাজে যোগ দেননি।

একাধিকবার যোগাযোগ এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডলকে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিভাগীয় নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা দুই অভিযোগই প্রমাণিত হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর করে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

একই ধরনের অভিযোগে এন্টি টেররিজম ইউনিটের সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তিনি অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকরভাবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সিলেট ৭-আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দেকেও অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই তারিখ থেকে কার্যকর করে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাসকেও অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিভাগীয় মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য ২০ দিনের বহিঃবাংলাদেশ ছুটি নিয়ে থাইল্যান্ড যান তিনি। ২ নভেম্বর ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর কাজে ফেরেননি। পরে একাধিকবার নোটিশ ও যোগাযোগ করা হলেও কোনো জবাব দেননি।

বিজ্ঞাপন

তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে কার্যকর করে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিভাগীয় মামলাগুলোতে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, কমিশনও ছয় কর্মকর্তাকে বরখাস্তের পক্ষে মত দেয়। পরে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর পৃথক আদেশে তাদের বিরুদ্ধে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD