Logo

র‍্যাবের পরিবর্তে আসছে এসআরবি, নতুন আইনের খসড়া প্রকাশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:০৭
র‍্যাবের পরিবর্তে আসছে এসআরবি, নতুন আইনের খসড়া প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

এলিট বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খসড়া আইনের ওপর জনসাধারণের মতামতও আহ্বান করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন আইনের মাধ্যমে বর্তমান র‍্যাবের সাংগঠনিক কাঠামোকে নতুন আইনি ভিত্তি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বাহিনীর দায়িত্ব, অভিযান পরিচালনা, তদন্ত ক্ষমতা, সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খসড়া আইনটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন মিললে পরবর্তী ধাপে জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। আইন কার্যকর হলে র‍্যাবের বিদ্যমান আইনি কাঠামো বিলুপ্ত হবে এবং নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আগের কিছু বিধান কার্যকর থাকবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, এসআরবির সদর দপ্তর ঢাকায় থাকবে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা মহাপরিচালক হিসেবে বাহিনীটির নেতৃত্ব দেবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠনের সুযোগ থাকবে। দেশের যেকোনো এলাকায় ইউনিট স্থাপন করা যাবে।

নতুন বাহিনীতে শুধু পুলিশ সদস্য নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর হবে।

বিজ্ঞাপন

খসড়া আইনে এসআরবিকে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে পারবে বাহিনীটি।

এছাড়া আদালত, সরকার অথবা পুলিশ প্রধানের নির্দেশে নির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলার তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে এসআরবির। তদন্ত পরিচালনা করবেন অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় প্রচলিত আইন ও পুলিশ রেগুলেশন অনুসরণ বাধ্যতামূলক হবে।

খসড়া আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হলো অভিযোগ প্রতিকার কমিটি। এই কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। একই সঙ্গে বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি, অনিয়ম কিংবা প্রশাসনিক অসঙ্গতি সম্পর্কেও পর্যালোচনা করবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার বা বিচার প্রশাসনে অভিজ্ঞ সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তি।

বিজ্ঞাপন

সদস্যদের জন্য কঠোর আচরণবিধিও খসড়া আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, মাদকাসক্ত অবস্থায় দায়িত্ব পালন, সরকারি অস্ত্রের অপব্যবহার, বেআইনি অর্থ আদায়, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা অন্যান্য অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, নতুন আইন কার্যকর হলে র‍্যাবের সব জনবল, সম্পদ, তহবিল, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে। নতুন বিধিমালা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অভিযোজনের মাধ্যমে বর্তমান বিভাগীয় কার্যবিধিও বহাল থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে র‍্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ দেশ-বিদেশে আলোচিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও নতুন কাঠামোয় বাহিনীর নাম পরিবর্তন ও জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, তবে অভিযান পরিচালনা, গ্রেপ্তার, তল্লাশি এবং তদন্তের মৌলিক ক্ষমতার বড় অংশই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD