জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনই সরকারের মূল লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

দেশকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১৬ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জনগণের প্রয়োজন ও প্রত্যাশাকে বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দেশের মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য মাছ সহজলভ্য করতে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন খাল, নদী ও জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ দেশের অর্থনীতি ও পুষ্টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এই খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সবসময় তাদের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
নারী শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, নারী সমাজকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে তুলতে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের জন্য বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করার কথাও জানান তিনি।
প্রাথমিক পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তায়ও নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় দেশের ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনা মূল্যে স্কুলের পোশাক ও ব্যাগ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের শাসনামলে অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো সাধারণ মানুষকে বহন করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে দেশের মানুষ পরিবর্তনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।
দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কেউ যদি জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে কিংবা দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও সামাজিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে জনগণের সহযোগিতা ও ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখেই রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও জনগণের জীবনমানের উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।








