বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদারে বেবিচকের কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য হুমকি ও ঝুঁকি নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন, গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর আদান-প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল হুমকি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন কমিটির (সিএটিআরএসি) দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিএটিআরএসি-এর সভাপতি ও বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। এতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিমান গোয়েন্দা ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বেসামরিক বিমান চলাচল খাত সন্ত্রাসবাদ, সাইবার ঝুঁকি, অভ্যন্তরীণ হুমকি, বিস্ফোরক, অপরাধমূলক উপাদান ও ড্রোন হামলাসহ নানা ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিরাপত্তা বিধিমালার ১৭ নম্বর সংযোজনী অনুযায়ী নিয়মিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নে সিএটিআরএসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এরই মধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচলের ঝুঁকি পরিস্থিতি সংক্রান্ত বিবৃতি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার আসন্ন নিরাপত্তা নিরীক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সভায় সিএটিআরএসি-এর প্রথম সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বর্তমান ও সম্ভাব্য নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে বিমানবন্দরগুলোর সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ফিশিং, পাসওয়ার্ড চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ এবং যাত্রী ও ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্য চুরিসহ বিভিন্ন ধরনের সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বেবিচকের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সভায় তুলে ধরা হয়।
সভায় জানানো হয়, জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচি ও বিমানবন্দর নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সাইবার নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল সাইবার নিরাপত্তা নির্দেশনা জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ই-গভর্নমেন্ট কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা নিরীক্ষা পরিচালনার জন্য সমঝোতা স্মারকও সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বিমানবন্দরগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার কাছ থেকে নিয়মিত নির্দেশনা নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া উড়োজাহাজ তল্লাশির প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে উচ্চঝুঁকির তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর করার বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞাপন
সমাপনী বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে সময়মতো তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
সভায় বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা পরিবেশে হুমকি ও ঝুঁকি মূল্যায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কার্যকর ঝুঁকি মূল্যায়ন, যথাযথ তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার আসন্ন নিরাপত্তা নিরীক্ষা সফলভাবে মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতি সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গঠনমূলক মতামতের জন্য সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে সিএটিআরএসি-এর দ্বিতীয় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।








