Logo

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারকে পদক্ষেপ নিতে হবে: আইনমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:২৩
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারকে পদক্ষেপ নিতে হবে: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরার পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটকে মানবিক ও মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে স্থায়ী সমাধানের পথে এগোতে হবে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মূলত মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক ও সেখানকার জনগোষ্ঠীর অংশ। তাই তাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমার সরকারকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে যে রোহিঙ্গারা তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সরকার অতীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেভাবে এ সংকট তুলে ধরেছিল, পরবর্তী সরকারগুলো একইভাবে বিষয়টি এগিয়ে নিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাওয়ার আগে দেশের জনগণের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করা জরুরি।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষকে দল-মত নির্বিশেষে, সব মতভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে—এই ভূখণ্ড, এই বাংলাদেশ সবার আগে।”

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক, সামাজিক ও মানবাধিকারের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়াকে মানবিক মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের বাংলাদেশে অবস্থানের কারণে বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিরোধে পরিণত হয়নি। বরং বাংলাদেশ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, “এটি মানবাধিকারের বিষয়। হিউম্যান রাইটস বা মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা বিষয়টিকে দেখি।”

সংবিধানের ২১ ও ২৫ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতি নাগরিকের দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়গুলো সংবিধানেই নির্ধারিত রয়েছে। সেই সাংবিধানিক নীতির আলোকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা সংকটকে জাতীয় ঐকমত্যের জায়গায় নিয়ে আসার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করতে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছেন।

একই সঙ্গে কক্সবাজারসহ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় নিরাপত্তা ও অপরাধের বিষয়টিও সরকারকে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। তার মতে, দেশের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি মানবাধিকার এবং কূটনৈতিক বাস্তবতাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আয়োজকদের প্রতি সামাজিক চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ও ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বিভিন্ন পক্ষের সুপারিশ সরকারের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। এসব প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটিতে উপস্থাপন করা হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি কোনো হস্তক্ষেপ নয়। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নয়। আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গারা এই ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী নয়। আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গারা মানুষ। আমরা বলতে চাই, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের দিক থেকে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ওই ভূখণ্ডের অধিবাসী এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের নির্দিষ্ট সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

আলোচনা সভায় নীতি গবেষণা কেন্দ্রের ট্রাস্টি সদস্য অধ্যাপক এস কে তৌফিক এম হক, নির্বাহী পরিচালক ড. শাকিল আহম্মেদ, রোহিঙ্গা নারী অধিকারকর্মী রাজিয়া সুলতানাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD