Logo

যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৬
যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নয়, পেশাগত দক্ষতা, সততা, নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২৩ আগস্ট) বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানের আগে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে অ্যাডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তাকে অভিনন্দন জানান তিনি। এ সময় নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনী পর্ষদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদমর্যাদার যোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিয়োগের উপযুক্ততার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট করেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ যেন কোনোভাবেই প্রভাব ফেলতে না পারে।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলনে হতাহতদের অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌ ও বিমানবাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। এ জন্য তিনি দুই বাহিনীর প্রধানসহ সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিমানবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও গবেষণামূলক স্থাপনা পরিদর্শন করেন। ঢাকা সেনানিবাসে আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের (এডিএসআই) উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচনের পর তিনি এর কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

এরপর বিমানবাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে যুদ্ধবিমান দিয়ে শত্রুবিমান ইন্টারসেপশন এবং চট্টগ্রাম থেকে ইউএভির লাইভ ফিড ব্যবহার করে হেলিকপ্টারে ট্রুপস ইনসার্শনের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরে বিমানবাহিনীর অ্যারোস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স (এআরডিসি) পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় তৈরি বিভিন্ন ধরনের ইউএভি প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভি-টল ছিল। প্রধানমন্ত্রী কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও প্রত্যক্ষ করেন।

নিজস্ব প্রযুক্তিতে আধুনিক উড্ডয়নব্যবস্থা তৈরির এই উদ্যোগকে বিমানবাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান ও পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD