সারাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ৫ লাখ বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আগামী পাঁচ বছরে ৫ লক্ষ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্ব করেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান (রিটন)।
মাহফুজুর রহমান (রিটন) বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এই উদ্যোগ শুধু বৃক্ষরোপণের একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের ওপরও প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত তাপমাত্রা গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির উৎপাদন, প্রজনন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সামগ্রিক কল্যাণে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ খামার ও প্রাণিসম্পদ স্থাপনার আশপাশে ছায়া, শীতল পরিবেশ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. শাহজামান খান বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীন সারাদেশের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা কার্যালয়, সরকারি খামার, কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনায় পরিকল্পিতভাবে ফলদ, বনজ, ঔষধি ও স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত সবুজ প্রাণিসম্পদ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব।
এই কর্মসূচির মূল দর্শন হলো “শুধু গাছ লাগানো নয়, গাছকে বাঁচিয়ে রাখা।” প্রতিটি রোপিত গাছের পরিচর্যা, নিয়মিত পানি প্রদান, সুরক্ষা ও পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে পাঁচ বছরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ৫ লক্ষ বৃক্ষ দেশের জন্য একটি মূল্যবান পরিবেশগত সম্পদে পরিণত হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রত্যেকে যদি একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে সেই ছোট উদ্যোগও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় অবদান হয়ে উঠতে পারে।
এ সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।








