দলনিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণই হবে তাঁর দায়িত্ব পালনের প্রধান লক্ষ্য।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে আয়োজিত রাষ্ট্রপতির প্রথম দরবারে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি দল, সংসদ ও মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে এখন তিনি সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছেন এবং সেই অবস্থান থেকেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কারও প্রতি ব্যক্তিগত রাগ বা অনুরাগ থাকবে না। দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের প্রতি ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান এবং আনুগত্য বজায় রাখতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করতে হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বঙ্গভবনের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গভবন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম প্রতীক। তাই এর মর্যাদা ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বঙ্গভবনের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশনা দেন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি অপচয় বন্ধের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সরকারি সম্পদ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা জনগণের অর্থে পরিচালিত হয়। তাই এসব সম্পদের যথাযথ, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিজীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি নৈতিক মনোবল ও সুন্দর চরিত্র গঠনের জন্য নিয়মিত সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে স্বাধীনতার পর দেশ ও রাষ্ট্র গঠনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ ছাড়া পূর্ববর্তী সব রাষ্ট্রপতিকেও স্মরণ করেন তিনি।
বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি একটি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সবাই একই জায়গায় কাজ করছেন। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সুযোগ পেলেই বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
বিজ্ঞাপন
ভবিষ্যতেও বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।








