Logo

তিন বছরে চার শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৬:৩৬
তিন বছরে চার শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরে দেশে চার শতাধিক তৈরি পোশাক কারখানা (গার্মেন্টস) বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সদস্য ২৮২টি এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্য ১২৩টি। সব মিলিয়ে বন্ধ কারখানার সংখ্যা ৪০০-এর বেশি। এসব কারখানার পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংগ্রহের কাজ এখনও চলছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কারখানা বন্ধের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে সংসদে উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ইউরোপের সঙ্গে ভারত ও ভিয়েতনামের এফটিএ চুক্তি এবং বিদেশি ক্রেতাদের নিজস্ব মনিটরিং সুবিধার জন্য ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ দিতে অনাগ্রহকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অবস্থান ধরে রাখতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বলে জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সরকারের পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাতে শুদ্ধ বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে ১.৫০ শতাংশ বিকল্প নগদ সহায়তা। ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান ১.৫০ শতাংশ সহায়তার পাশাপাশি আরও ০.৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া রপ্তানিমুখী নিট, ওভেন ও সোয়েটার খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সুবিধা এবং তৈরি পোশাক খাতে ০.৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তার কথা সংসদে জানান মন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশজুড়ে বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত দাম নেওয়া, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট তৈরি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন সিন্ডিকেট, কার্টেল ও যোগসাজশমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। জনস্বার্থে বাজার তদারকি ও আইনানুগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD